প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার

নিউ ইয়র্ক: কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত হয়েছেন এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অভিযোগ ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক টেকনোলোজি স্টার্ট আপ কোম্পানি ইউপ্লাস এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) এবং ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা বারবারা শহরে বসবাসকারী শওকত শামীম কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৩-২০- এমজে-৭০৯৬৬ এমএজি। ইতোমধ্যে এফবিআই তাকে গ্রেফতার করেছে এবং তিনি ২ লাখ ডলার বন্ডে বেরিয়ে এসেছেন।

ইন্টারনেটের ভিডিও বিশ্লেষণের একটি উন্নত ম্যাশিন-লার্নিং সরঞ্জাম হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউপ্লাস। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ৪৮ বছর বয়সী শওকত শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি বিনিয়োগকারীদের মিথ্যাভাবে বলেছিলেন, কোম্পানিটি বছরে লাখ লাখ ডলার আয় করে আর তাদের একশ’রও বেশী ক্রেতা রয়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে ‘ফরচুন ৫০০’ কোম্পানিও রয়েছে বলে বিনিয়োগকারীদের মিথ্যা তথ্য দেন তিনি।

ইউএস সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এর বিবৃতিতে জানানো হয়, এক বিনিয়োগকারী যখন এসব দাবী প্রমাণের তথ্যের জন্য চাপ দেন তখন শামীম জালিয়াতি গোপনের চেষ্টা হিসেবে ওই বিনিয়োগকারীকে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শামীমের এই দুরভিসন্ধি উন্মোচিত হয় ২০১৯ সালের শেষ দিকে। ওই সময়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে স্বীকার করেন প্রকৃতপক্ষে ইউপ্লাস-এর মোট আয় ৫ লাখ ডলারেরও কম আর ২০১৩ সালে যাত্রার পর থেকে নিয়ে কোম্পানিটির মূল্য পরিশোধকারী ক্রেতা মাত্র চারজন।

২০১৩ সালে ইউপ্লাস প্রতিষ্ঠা করেন শওকত শামীম। ওই বছরের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার মূলধন যোগাড় করে ইউপ্লাস। এর মধ্যে প্রায় এক কোটি দশ লাখ ডলার জোগাড় হয় ২০১৮ ও ২০১৯ সালে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৩০ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে এসব তহবিল জোগাড় করে কোম্পানিটি। এসব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যক্তি, ছোট তহবিল কিংবা প্রতিষ্ঠানও ছিল।

এসইসি’র সান ফ্রান্সিসকো আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকজ এরিন ই. স্নাইডার বলেন, ‘আমাদের অভিযোগ অনুযায়ী শামীম এবং ইউপ্লাস কোম্পানিতে বিনিয়োগে লাভের ফাঁপা গল্প ছড়িয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার হয়েছে এর আর্থিক কর্মক্ষমতা এবং ক্রেতার ভিত্তি বিষয়ক মিথ্যা তথ্য।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ের তহবিল সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির সময় প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই সত্যি কথা বলতে হবে।’

একটি আর্থিক তহবিল ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ইউপ্লাসে মোট প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে। এরমধ্যে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিনিয়োগ করা হয় ছয় লাখ ডলার। ওই তহবিল বিনিয়োগ কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য ব্যক্তিগতভাবেও ইউপ্লাসে হাজার হাজার ডলার বিনিয়োগ করেন বলে জানিয়েছে এসইসি।

লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী শওকত শামীম ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা কলেজে লেখাপড়া করেছেন। ১৯৯৪ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্সে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

নর্থ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট আদালতে দায়ের করা এসইসি’র অভিযোগে বলা হয়েছে, শওকত শামীম ও ইউপ্লাস যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় পুঁজিবাজার আইনের জালিয়াত বিরোধী ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তার বিরুদ্ধে স্থায়ী আদেশও চেয়েছে এসইসি। এর পাশাপাশি শামীমের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগও ঘোষণা করেছে নর্থ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়।❑

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension