রেইকি: নিঃশ্বাস, মন আর দেহ-তিন তারের ঐক্যতানে প্রাণে বাজায় সুর

পুরো পৃথিবী জুড়ে অ্যালোপ্যাথির সঙ্গে উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির  পাশাপাশি হোমিও, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ ইত্যাদি চিকিৎসা পদ্ধতির রয়েছে ব্যাপক ব্যবহার। এসব চিকিৎসা ব্যবস্থা মূলত ওষুধ নির্ভর। কিন্তু চীন ও জাপানে রয়েছে কিছু কার্যকরি এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। এসব পদ্ধতিতে ওষুধের কোনও প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের চিকিৎসা নিজেই করা যায়। যেমন আকুপ্রেশার, আকুপাংচার, রেইকি। এসব চিকিৎসা পদ্ধতিতে ওষুধের কোনও দরকার নেই।

রেইকি (Reiki) জাপানের একটি বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাপানি চিকিৎসা পদ্ধতি। জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতেও এখন স্পর্শ এই চিকিৎসা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রেইকি নিয়ে গবেষণা চলছে আমেরিকাসহ বিশ্বের খ্যাতনামা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। রেইকি হচ্ছে রেডিও তরঙ্গের মতো এক ধরনের মহাজাগতিক শক্তি তরঙ্গ।

বাংলাদেশেও অনেকে রেইকি নিয়ে অনেকে কাজ করে চলেছেন। তাঁদেরই একজন সায়মা সাফীজ সুমী। তিনি রেইকিকে পরিচিত ও জনপ্রিয় করতে বিভিন্নভাবে মানুষকে উৎসাহিত করে চলেছেন। গেল ১৪ জুন রেইকি নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করেন। রেইকি (Reiki) নিয়ে  আজকে একটি সংক্ষিপ্ত লেখাটি লিখেছেন । পরবর্তীতে এ  বিষয়ে বিস্তারিত আরেকটি রচনা প্রকাশ করবার সদিচ্ছা আমাদের রয়েছে।
নির্বাহী সম্পাদক, রূপসী বাংলা

 

সায়মা সাফীজ সুমী

প্রকৃতি নিজেই নিরাময়কারী। প্রকৃতির দিকে তাকালে, প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো দেখলে আমাদের রাগ, ভয়, এবং মানসিক চাপ কমে গিয়ে ভেতরে মনোরম এক আনন্দের অনুভূতি জাগায়। বিভিন্ন জায়গায় গবেষকরা তাঁদের গবেষণায় দেখেছেন, এমন কি ঘরে রাখা একটি সাধারণ গাছও আমাদের মানসিক চাপ এবং উদ্বেগের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করলে দেখবেন, প্রকৃতির মাঝেও আমাদের মতো শান্ত এবং বন্যতা  একই সাথে বিরাজমান।প্রকৃতি মাঝে থাকলে আমাদের মন অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকে।

আমরা আমাদের সকল খাদ্য, পানীয়, ওষধ, উপকরণ, এমনকি আশ্রয়ের জন্যও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। অথচ নির্মম সত্য হলো, প্রকৃতির আমাদেরকে দরকার নেই, কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতিকে খুব দরকার।

আমাদের প্রকৃতি আমাদেরকে কতটা ভালো থাকতে সাহায্য করতে পারে সেটি দেখা যেতে পারে রেইকির মাধ্যমে। আর এর জন্য দরকার আপনাদের সহযোগিতা। ভালো থাকার জন্য আমরা জীবনে অনেক কিছু চেষ্টা করে থাকি কিন্তু কখনই প্রকৃতির কাছে যেতে পারি না। আমার ও আপনাদের একান্ত ইচ্ছায় যদি আবার সেখানে যেতে পারি। চলুন ঘুরে আসি। প্রকৃতি কখনও আমাদেরকে নেতিবাচক কিছু দেবে না। এই বিশ্বাসের জায়গা থেকে চলুন আমরা কাজ করি।

রেইকি (Reiki) সারসংক্ষেপ

রেইকি (Reiki) জাপানি শব্দ। ‘রেই’ (Rei) শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ- সর্বব্যাপী বা মহাজাগতিক। এবং ‘কি’ (ki) শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ রূপ ‘জীবনীশক্তি বা প্রাণশক্তি।’

রেইকি (Reiki) আধ্যাত্মিক শক্তি সঙ্গে কাজ করার একটি পদ্ধতি। এই শক্তিকেই রেইকি বলা হয়। কিন্তু এটি বিভ্রান্তিকর, কারণ শক্তির নিজের নাম নেই, শুধুমাত্র পদ্ধতিটিকে রেইকি বলা যেতে পারে। রেইকি  শব্দটি নিজেই ‘সার্বজনীন আধ্যাত্মিক শক্তি।’

ড. মিকাও উসুই ১৫০ বছর আগে এই শক্তির নাম দিয়েছেন ‘রেইকি।’ অবশ্য দেশ ও জাতিভেদে এর নামের ভিন্নতা আছে।

জার্মান বলে ‘মেসমেরিজম’, ভারত বলে ‘মহাজাগতিক শক্তি’, চীন বলে ‘চী’, আমেরিকা বলে ‘কসমিক এনার্জি।’ নাম ভিন্ন হলেও পদ্ধতি মূলত একই।

সাধারণত হাতের মাধ্যমে পজিশনে বা রোগীর কষ্টের স্থানে স্পর্শ করে রেইকি দেওয়া হয়। তবে দূরবর্তী হিলিংয়ের ক্ষেত্রে রোগীকে স্পর্শ না করেও রেইকি দেয়া হয়।

সময়, স্থান কালভেদে পাৰ্থক্য হয়। সর্বোচচ এক ঘন্টা বিশ থেকে ২১ মিনিট সময় লাগতে পারে। কদিন লাগবে সেটি নির্ভর করে রোগের।

সাধারণত মানুষ রেইকি (Reiki) নেওয়ার সময় শারীরিক কিছু ‘অনুভূতি’ অনুভব করেন, যা শেষ হওয়ার পরে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবেই কাজ করে।

রেইকি যে কোনও শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় কাজ করে। রেইকি দিয়ে সকল ইতিবাচক কাজ করা সম্ভব। রেইকি দিয়ে কখনও কোন নেতিবাচক কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

রেইকি যিনি নেবেন তাকে নিজে বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে চাইতে হবে। এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। রেইকি কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণের কোনও ব্যাপার নয়। এটি যে কেউ যে কোনও সময়ে তার শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক অথবা যে কোনও কারণে নিতে পারে।

 আপনি বা যে কেউ ইচ্ছে করলেই রেইকি শুরু করতে পারবেন না। এর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক বা গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিতে হবে। এটি গুরুমুখী বিদ্যা।

রেইকি (Reiki) এর কিছু উপকারিতা

১. শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে
২. শরীরে প্রশান্তি অনুভূত হয়
৩. শরীরে শক্তির কোনও ব্লক থাকলে তা দূর করে
৪. শরীর, মন আর আত্মার মধ্যে ভারসাম্য আনয়ন করে
৫. শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে
৬. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
৭. ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে

৮. শরীর থেকে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে

লেখক: রেইকি মাস্টার হিলার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *