জাতিসংঘ

শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু সুরক্ষার পদক্ষেপসমূহ অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জাতিসংঘে পূনর্ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ

বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ছবি: বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।

শাহ জে. চৌধুরী : শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু সুরক্ষার পদক্ষেপসমূহ এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে কাজ করতে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জাতিসংঘে পূনর্ব্যক্ত করলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি ৭৪তম অধিবেশনের ৩য় কমিটির আওতায় ‘শিশু অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষা’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, “শিশু অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদের ৩০ বছর পূর্তি অতি সন্নিকটে। আমাদের উচিত উপলক্ষটির পূর্ণ ব্যবহার করা। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আসুন শিশু অধিকার সমুন্নত রাখতে আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কাজ করি”।

বাংলাদেশ অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টিকাদানে সফলতার জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন কর্তৃক ‘ভ্যাকসিনেশন হিরো’ অ্যাওয়ার্ড এবং যুবদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ইউনিসেফ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন ফর স্কীল ডেভোলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন এ জাতীয় আন্তর্জাতিক পুরষ্কার শিশু ও যুব উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রারই স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত ও বাস্তবায়িত জাতীয় শিশু উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির বিভিন্ন উদাহরণ টেনে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে যা শিশুদের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানেরই বহি:প্রকাশ।

বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু সুরক্ষা বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়িত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির নানাদিক তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে লিঙ্গসমতা অর্জন, প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত, মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণ, ই-লার্নিং, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ, শিক্ষা বৃত্তি ও ভাতা প্রদান, স্কুল অবকাঠামো উন্নয়ন, সার্বজনীন ও উন্নত শিশু স্বাস্থ্যসেবা, ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা সাফল্যগাঁথার তথ্য-চিত্র।
বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য কল্যাণ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত শিশুসহ সকল রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে স্ব-প্রণোদিতভাবে নিরাপদে ও নিরাপত্তার সাথে টেকসই পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension