সাক্ষাৎকার

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ হবে

মোস্তাফিজুর রহমান


বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক ব্যাক্তিত্ব তোফায়েল আহমেদ। আওয়ামী লীগের সংগ্রাম সঙ্কট অর্জনের নানা ইতিহাসের স্বাক্ষী এই নেতা। ১৯৬৮-৬৯-এ গণজাগরণ ও ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনিই। হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন। আওয়ামী লীগের হয়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের জ্যৈষ্ঠ সদস্য। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও তা অর্জনের অগ্রগতি সম্পর্কে সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের প্রাজ্ঞ এই রাজনীতিক।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার হৃদয়ে ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জাতির পিতার সেই লক্ষ্য সামনে নিয়েই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা এই দেশকে হানাদার মুক্ত করি।’

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘আমার মনে আছে, ১৯৬৯-এ আমরা যখন বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য আন্দোলন করি, তখন পল্টনে একটা জনসভা করেছিলাম। সেদিন ৯ ফেব্রুয়ারি, নাম ছিল ‘শপথ দিবস’। সেখানে আমি স্লোগান তুলেছিলাম ‘শপথ নিলাম শপথ নিলাম, মাগো তোমায় মুক্ত করবো, শপথ নিলাম শপথ নিলাম, মুজিব তোমায় মুক্ত করবো।’ আমরা ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি, জাতির পিতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিলাম। আর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত করে আমরা আমাদের দুটি স্লোগান বাস্তবায়ন করি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল। একটা স্বাধীনতা, আরেকটি ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। একটি তিনি করে গেছেন, আরেকটি করতে যখন শুরু করেছিলেন। ঠিক তখনই সপরিবারে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেদিন তার দুই কন্যা বিদেশে ছিলেন। ভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যান। পরে ৮১-তে জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে আমরা আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছি। সেই পতাকা হাতে নিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে ৪০ বছর দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এখনো নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। হয়েছেন চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ হবে।’

বঙ্গবন্ধুকে স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা পড়লে বোঝা যায়, আওয়ামীলীগের জন্য কত কষ্ট করেছেন তিনি। মানুষ মন্ত্রিত্বের জন্য ঘুরে বেড়ান। আর বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। আবার মুক্তিযুদ্ধের পর যখন তিনি ক্ষমতায় আসেন, তখন আবার আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তার জীবনে অনেকবার, প্রায় ১৩ বছর কারাভোগ করেছেন, কিন্তু কখনো মাথা নত করেননি। যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড আরম্ভ করেছিলেন, সেই লক্ষ্য পূরণ করে গেছেন। তার সেই লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করেছি।’

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যপূরণে অগ্রগতি সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ থেকে ৭২ বছর আগে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর দলকে নিয়ে ছিল একটা লক্ষ্য উদ্দেশ্য। আজকে ভাবতে ভালো লাগে, বঙ্গবন্ধু সেই লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি উপলব্ধি করেছিলেন, পাকিস্তান বাঙালিদের জন্য নয়। একদিন বাংলার ভাগ্য নিয়ন্ত্রক বাঙালিদের হতে হবে। সে লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি সংগ্রাম করেছেন। তিনি প্রথমে নিজেকে, তারপর দেশকে, তারপর তার যে নীতি-আদর্শ, সেটাকে প্রস্তুত করেছেন।’

 

বাংলাদেশ জার্নালের সৌজন্যে

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension