স্বাধীনতার পথে- ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

কাইয়ুম মুসলিম লীগের প্রধান খান আবদুল কাইয়ুম খান ও কাউন্সিল মুসলিম লীগ নেতা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নূর খান বিকেলে প্রেসিডেন্ট হাউজে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠকে মিলিত হন।

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী এক বিবৃতিতে জুলফিকার আলী ভুট্টোর জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বয়কটের সিদ্ধান্তের নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তারা বলেন, ভুট্টোর আচরণ ও গণতন্ত্র বিরোধী ঘোষণার দ্বারা গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো যে, দেশী ও বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীলদের গণবিরোধী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

সম্পাদকমণ্ডলী ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘গণতন্ত্র এবং জাতীয় অধিকার বিরোধী দেশী ও বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল মহলকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও শাসনক্ষমতা গণপ্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তরের পথে যে কোনও প্রকার ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে পূর্ববাংলার সংগ্রামী ছাত্র সমাজ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করবে না। যে কোনও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে প্রস্তুত থাকতে আমরা ছাত্র-জনতার প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এই সংকট মুহূর্তে ছাত্র সংগঠন সমূহের ঐক্যের গুরুত্বের কথা আমরা আবার আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নেতা ও কর্মী ভাইদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী এ. কে. এম হাফিজউদ্দিন আজ তার বাসভবনে দেখা করেন।

বীর শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ঢাকা শহর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ’৫২-র ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ১৯ বছর আগের মহান ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলা ভাষার স্বীকৃতিতে সীমিত নয়, বরং তা গণঅধিকার আদায়েরও সংগ্রাম ছিল। তিনি বলেন, শহীদের আত্মত্যাগ যাতে বিফল না হয় সে জন্য জনগণের শপথ নিতে হবে। তিনি আমাদের জীবনের সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ফুটিয়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাঙালিদের আর দমন করা যাবে না, এটাই ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা।

প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সভাপতিত্বে আজ প্রেসিডেন্টের মন্ত্রীপরিষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীতে উপস্থিত মন্ত্রীপরিষদের সদস্যগণ এতে যোগদান করেন। এই সভায় যোগদানকারীরা হলেন, প্রেসিডেন্টের প্রধান স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল পীরজাদা, প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এম. এম. আহমদ, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান জনাব এম. এইচ. সুফী।

পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আজ ঢাকায় এক বিবৃতিতে বলেন, জনাব ভুট্টো জাতীয় পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে যোগদান না করার সম্পর্কে যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে জনগণের মনে বিরূপ সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, জনাব ভুট্টো বলেছেন, তার শর্ত পূরণ না হলে আগামী ৩ মার্চ ঢাকার জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদান করবেন না। ন্যাপ প্রধান অভিযোগ করেন যে, গণতন্ত্রের সম্ভাবনা, বিভিন্ন জাতীয় অধিকার, কৃষক শ্রমিক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার অধিকার নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনে বিচ্ছিন্নতার অধিকারসহ সকল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রনাধীকারের নিশ্চয়তা বিধানপূর্বক একটি বিল পাশ করার জন্য জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ও অন্যান্য দলের প্রতি আহবান জানান। তিনি মনে করেন, বিভিন্ন জাতিকে উক্ত অধিকার প্রদান করা হলে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে। কারণ, বিভিন্ন দল ও জাতি তখন দ্বিধাহীনভাবে আলোচনায় এগিয়ে আসতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *