স্বাধীনতার পথে- ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

আজ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। বর্ষ পরিক্রমায় সংগ্রামের পথ ধরে আবার ফিরে এসেছে ভাষা শহীদের রক্তসিক্ত একুশে। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও নাম না জানা শহীদানের পবিত্র স্মৃতি বিজড়িত আজকের এই দিনে সূর্য ওঠার আগে সকল স্তরের মানুষ খালি পায়ে, কালো ব্যাজ ধারণ করে, কালো পতাকা তুলে ধীর পয়ে এগিয়ে যাবে মিছিলের পর মিছিল নিয়ে আজিমপুর গোরস্তানের পবিত্র ভূমিতে। আবালবৃদ্ধবণিতা শ্রদ্ধাবনত মস্তকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সেখানে। তারপর তাঁরা একে একে এসে মিলিত হন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। ফুলে ফুলে ভরে তোলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরপর তারা গ্রহণ করেন সংগ্রামের নবতর শপথ।

আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাত পৌনে ১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। শহীদ মিনারে প্রদত্ত এক ভাষণে তিনি ঘরে ঘরে প্রস্তুত থাকার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, ’৫২তে যে ষড়যন্ত্রের শুরু, সেই ষড়যন্ত্র আজও অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতে আরও কঠিন হতে পারে।

পাকিস্তানে আগত কতিপয় বিদেশী বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ব্যাপারে ভুট্টোর নীতি সমর্থন করে বলেন, পাকিস্তান একটি সঙ্কটময় অবস্থার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। যে কোনও ভুল পদক্ষেপ দেশের জন্য ক্ষতিসাধন করবে। আইয়ুব খান তার পদত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, গোল-টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী রাজনীতিকদের পরামর্শ গ্রহণ করা হলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হতো। তিনি বলেন, ভুট্টো অতীতে কিছু ভুল করেছেন, কিন্তু এখন তিনি পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পারছেন।

জাতীয় পরিষদ কিংবা প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশনের পূর্বে আপন পদ থেকে ইস্তফা দানের অনুমতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একটি নির্দেশ জারী করেন। বিবৃতিতে বলা হয়- নির্দেশটি ১৯৭১ সালের আইনগত কাঠামো (সংশোধনী) আদেশ (প্রেসিডেন্টের ১৯৭১ সালের ১নং আদেশ) নামে অভিহিত হয়। আদেশটি ১৯৭০ সালের আইনগত কাঠামো আদেশ সংশোধন করে এলএফও’র ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে নিম্নলিখিত ধারা যোগ করে সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচিত কোনও ব্যক্তি পরিষদের প্রথম অধিবেশনের পূর্বে নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইলে কমিশনারকে নিজের হাতে  লেখা নোটিশ প্রদান করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *