স্বাধীনতার পথে- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাইয়ুম গ্র“প) ৬-দফার প্রশ্নে তাদের ভাষায় আওয়ামী লীগের অনমনীয় মনোভাবের প্রক্ষিতে ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ৯০ মিনিট স্থায়ী সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে খান আবদুল কাইয়ুম খান বলেন যে, অন্যান্য ফেডারেল ইউনিটের বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা হবে বলে শেখ মুজিবুর রহমানের আশ্বাস ছাড়া তাঁর দলের এম. এন. এ-দের জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদান করা নিরর্থক।
পাকিস্তান সরকারের কেবিনেট সেক্রেটারিয়েটের এক ইশতেহারে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করে দিয়েছেন এবং এই ব্যবস্থা আজ ভোর থেকে কার্যকর হয়েছে। ঐ ইশতেহারে আরো বলা হয় যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ৪ আগস্ট ৭ সদস্য বিশিষ্ট এক মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
সকল প্রদেশের গভর্নর ও সামরিক প্রশাসকদের এক বিশেষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট জেনারেল এ. এম ইয়াহিয়া খান সভাপতিত্ব করেন। সহকারী প্রধান সামরিক প্রশাসক জেনারেল আবদুল হামিদ খান এবং প্রেসিডেন্টের প্রধান স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস. জি. এম. পীরজাদাও সম্মেলনে যোগদান করেন। পিপিআইর খবরে প্রকাশ সরকারি ঘোষণায় ঐ সম্মেলনে আলাপ আলোচনায় বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু বলা না হলেও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লীস্থ পাকিস্তানি হাই কমিশন ভারতীয় বৈদেশিক দফতরের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। পকিস্তানি দূতাবাসের মূল ভবনের মধ্যে প্রবেশ করে সম্প্রতি বিক্ষোভকারীরা জিনিসপত্রের যে ক্ষতিসাধন করেছে পাকিস্তান সরকার তার ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯৩ হাজার ৭৭০ টাকা ৬৫ পয়সা দাবি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *