স্বাধীনতার পথে- ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১

পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস এডমিরাল আহসান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠান ও শাসনতন্ত্র প্রণয়ন প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানের যে রাজনৈতিক আবর্তের সৃষ্টি হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক খুবই অর্থবহ। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এডমিরাল আহসান বলেন, তাঁরা জাতীয় ও প্রাদেশিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

পাকিস্তান পিপলস্‌ পার্টির চেয়ারম্যান জেড. এ. ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্ট এ. এম. ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। পিপলস্‌ পার্টি প্রধান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দুই ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে দেশের শাসনতান্ত্রিক সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেন।

পিপলস্‌ পার্টি প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো হায়দরাবাদে এক জনসভায় বক্তৃতায় বলেন, তার দল আসন্ন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জন করে নি। তাদের অভিমত শোনা হবে এবং যুক্তিসঙ্গত হলে তা গ্রহণ করা হবে এমন আশ্বাস পেলেই তারা অধিবেশনে যোগদান করবেন। তিনি বলেন, তার দলের আন্তরিক ইচ্ছা যে দেশ একটি কার্যকর ও কার্যোপযোগী শাসনতন্ত্র পাবে এবং অনতিবিলম্বে জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।

পাকিস্তানে নিযুক্ত বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক আইভান নেনোভ সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার বাসভবনে এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। উভয় নেতা পরস্পর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পশ্চিম পাকিস্তান পিডিপির প্রেসিডেন্ট নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি জাতীয় পরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যাতে আইন কাঠামো আদেশের আওতার মধ্যে থেকে কাজ করে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আবেদন জানান। তিনি বলেন, আইন কাঠামো আদেশের আলোকে প্রেসিডেন্ট ৬ দফা ভিত্তিক কোনও শাসনতন্ত্র অনুমোদন করবেন কিনা সে সম্পর্কে তিনি দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা করে বর্তমান সঙ্কটের অবসান ঘটাতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *