হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহামূল্যবান বাণী (পর্ব চারের চার)

পর্ব চারের চার

 

উড়ো কথা প্রচার না করা

৪১. প্রতিটি শোনা কথা বলে বেড়ানোটাই মিথ্যাবাদী হবার জন্যে যথেষ্ট। [সহীহ মুসলিম]

 

মর্যাদা দান

৪২. মর্যাদা অনুযায়ী মানুষকে সমাদর করো। [আবু দাউদ]

 

সন্তান

৪৩. তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা দান করো এবং তাদের সুন্দর আচার ব্যবহার শিখাও। [ইবনে হিব্বান]

 

শক্তিমান কে ?

৪৪. শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [সহীহ মুসলিম]

 

অধ:পতন

৪৫. যার কর্ম তাকে ডুবায়, তার বংশ তাকে উঠাতে পারেনা। [সহীহ মুসলিম]

 

শাসক হবে তেমন

৪৬. তোমরা হবে যেমন, তোমাদের শাসকও হবে তেমন। [মিশকাত]

 

অপরের দোষ

৪৭. যে ব্যক্তি একজন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। [সহীহ মুসলিম]

 

আল্লাহর বিধান পালন

৪৮. হারাম থেকে বেঁচে থাকো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন। [তিরমিযী]

 

সৌভাগ্য

৪৯. আল্লাহর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট থাকতে পারা আদম সন্তানের একটি সৌভাগ্য। [তিরমিযী]

 

কি নিয়ে উঠবে ?

৫০. প্রতিটি বান্দা কিয়ামতে তাই নিয়ে উঠবে, যা নিয়ে সে মরেছে। [সহীহ মুসলিম]

 

নেতা

৫১. নেতা হবে মানুষের সেবক। [দায়লমী]

৫২. তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 

মতভেদ

৫৩. মতভেদ কারোনা। তোমাদের পূর্বে যারা মতভেদ করেছিল, তারা ধ্বংস হয়েছে। [সহীহ বুখারী]

 

আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি

৫৪. সকল সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবারের জন্যে বেশী উপকারী, সে তাঁর কাছে বেশী প্রিয়। [সহীহ মুসলিম]

 

রসূলুল্লাহ সাঃ

৫৫. আমি প্রেরিত হয়েছি রহমত হিসেবে। [সহীহ মুসলিম]

 

সাহাবায়ে কিরাম

৫৬. আমার উম্মতের উত্তম লোক হলো আমার সময়ের লোকেরা। [সহীহ বুখারী]

৫৭. আমার সাহাবীদের গালি দিওনা। [সহীহ বুখারী]

 

শ্রেষ্ঠ নারী

৫৮. পৃথিবীর সর্বোত্তম নারী ইমরানের কন্যা মরিয়ম আর খুয়াইলিদের কন্যা খাদীজা। [সহীহ বুখারী]

নোট: মরিয়ম ছিলেন হযরত ঈসা আ সালামের মা, আর খাদীজা ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী।

 

আবু বকর রাঃ

৫৯. আমি যদি আমার প্রভুকে ছাড়া আর কাউকেও বন্ধু বানাতাম, তবে অবশ্যি আবু বকরকে বন্ধু বানাতাম। [সহীহ বুখারী]

৬০. হে আবু বকর! (পর্বত) গুহায় তুমি আমার সাথী ছিলে, হাউজে কাউসারেও তুমি আমার সাথী থাকবে। [তিরমিযী]

৬১. নিজের সাথীত্ব ও অর্থ দিয়ে আমাকে সকলের চেয়ে অধিক সহযোগিতা করেছে আবু বকর। [সহীহ বুখারী]

 

উমর রাঃ

৬২. আল্লাহ উমরের যবান ও অন্তরে সত্য সন্নিবেশ করে দিয়েছেন। [তিরমিযী]

৬৩. আমার পরে যদি কেউ নবী হতো, তবে অবশ্যি উমর বিন খাত্তাব হতো। [তিরমিযী]

 

দু’ আর নিয়ম ও গুরুত্ব

৬৪. যখন কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছে করবে। [মিশকাত]

৬৫. দু’আ ইবাদত। [তিরমিযী]

৬৬. দু’আ ইবাদতের মস্তিস্ক। [তিরমিযী]

৬৭. আল্লাহর কাছে তাঁর অনগ্রহ চাও। তাঁর কাছে প্রার্থনা করাকে আল্লাহ খুবই পছন্দ করেন। [তিরমিযী]

৬৮. যে আল্লাহর কাছে চায়না, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত হন। [তিরমিযী]

১৬৯. আমি আল্লাহর কাছে দিন একশ ’ বার ক্ষমা প্রার্থনা করি। [সহীহ মুসলিম]

 

তাওবা

১৭০. বান্দাহ যখন অপরাধ স্বীকার করে এবং তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। [সহীহ বুখারী]

ব্যাখ্যা: তাওবা করার অর্থ – অন্যায়, অপরাধ ও ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে সে জন্যে অনুশোচনা করা ও তা থেকে, ফিরে আসা এবং এমন কাজ আর কখনো না করার সিদ্ধান্ত নেয়া।

১৭১. সব আদম সন্তানই ভুল করে। তবে এদের মধ্যে উত্তম হলো তারা যারা ভুলের জন্যে তাওবা করে। [তিরমিযী]

 

রসূলুল্লাহর কতিপয় দু’আ

১৭২. হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই দুশ্চিন্তা থেকে, মনোকষ্ট থেকে, বার্ধক্য থেকে, আলস্য ও কাপুরুষতা থেকে এবং কৃপণতা ও ঋণের বোঝা থেকে। [সহীহ বুখারী]

১৭৩. হে আল্লাহ ! আমার অন্তরে আল্লাহভীতি দাও এবং তাকে পরিশুদ্ধ করো। তুমিই তো তার উত্তম পরিশুদ্ধকারী। [সহীহ মুসলিম]

১৭৪. ওগো আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান থেকে পানাহ চাই যাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর এমন হৃদয় থেকেও আশ্রয় চাই যাতে তোমার ভয় নেই। [আহমদ]

১৭৫. আয় আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই সংশয় থেকে, কপটতা থেকে আর অসৎ চরিত্র থেকে। [নাসায়ী]

১৭৬. হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে চাই হিদায়াত, আল্লাহভীতি, পবিত্র জীবন এবং প্রাচুর্য। [সহীহ মুসলিম]

১৭৭. ওগো আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে স্বস্তি দান করো এবং আমাকে জীবিকা দাও। [সহীহ মুসলিম]

১৭৮. আমার আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে কল্যাণময় জ্ঞান , গ্রহণযোগ্য আমল আর পবিত্র জীবিকা প্রার্থনা করছি। [আহমদ]

১৭৯. ওগো আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্থতা, স্বস্তি, বিশ্বস্ততা, উত্তম চরিত্র আর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি। [বায়হাকী]

১৮০. আমার আল্লাহ ! আমি তোমার ভালোবাসা চাই, আর যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই। [তিরমিযী]

 

*** আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) চাইতে অধিক সুন্দর কোনো কিছু দেখিনি। [আবু হুরাইরা রা. তিরমিযী]

*** আমি কাউকেও রসূলুল্লাহর (সাঃ) চাইতে দ্রুত চলতে দেখিনি। [আবু হুরাইরা রাঃ তিরমিযী]

*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) কাছে কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি ‘ না’ বলেছেন, এমন কখনো হয়নি। [জাবির: সহীহ বুখারী]

*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) কথা বলতেন থেমে থেমে স্পষ্ট করে। [জাবির রাঃ আবু দাউদ]

*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে বিনিময়ে তিনি খারাপ ব্যবহার করতেন না, বরং ক্ষমা করে দিতেন এবং উপেক্ষা করতেন। [আয়েশা রাঃ তিরমিযী]

—————————————————————————————- 

 

-আর এন শুভ্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *