হিন্দুদেরই দিয়ে দেওয়া হোক আযোধ্যার বিতর্কিত জমি, বলছেন মুসলিমরাই

রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: বাবরি মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। হয়ত শীঘ্রই সামনে আসবে রায়। এই আশায় রয়েছে সব পক্ষেই। প্রত্যেকদিন চলছে সেই মামলার শুনানি। এবার মুসলিমদের তরফ থেকে বলা হল, হিন্দুদেরই জমি দিয়ে দিতে চায় তারা। মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা অযোধ্যার বিতর্কিত জমি হিন্দুদেরই দিতে চান।

বৃহস্পতিবার ‘ইন্ডিয়ান মুসলিম ফর পিস’ নামে একটি বুদ্ধিজীবী সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে গিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমির উদ্দিন শাহ বলেন, ‘দেশে শান্তির অবহ বজায় রাখতে হিন্দুদেরই জমি দিয়ে দেওয়া উচিৎ।’ তাঁর দাবি যদি শীর্ষ আদালত মুসলিম মামলাকারীদের পক্ষে রায় দেয় তাহলেও সেখানে মসজিদ গড়া সম্ভব হবে না। কারণ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে পুজো করছেন হিন্দুরা।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ বলেন, ‘‘আমি বাস্তববাদী। আমাদের সকলেরই বাস্তবটা বোঝা উচিত। আদালতের রায় মুসলিমদের পক্ষে গেলেও, অযোধ্যায় মসজিদ গড়া সম্ভব হবে না।”

এর আগে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডও জানিয়েছিল তাঁরা অযোধ্যা নিয়ে তাঁদের দাবি ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে অযোধ্যা মামলার শুনানি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন ১৭ অক্টোবরের মধ্যে শুনানির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে দুই পক্ষের দেওয়া যাবতীয় কাগজ পত্র ১৮ অক্টোবরের মধ্যে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে জমা দিতে হবে।

এদিন ফোরামের তরফ থেকে আরও দাবি জানানো হয় যে, এএসআই-এর পর্যবেক্ষণে থাকা প্রার্থনার জায়গাগুলি খুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় যারা অভিযুক্ত, তাদের শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে ফোরামের তরফ থেকে।

এর আগে ২০১৭-তে দিয়ে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড জানিয়ে দেয়, অযোধ্যায় রামের জন্মভূমি থেকে মসজিদ সরিয়ে কোনও মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হোক। উত্তরপ্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের তরফে হলফনামায় লেখা হয়, ‘‘আমাদের মতে দুই বিবাদি পক্ষের উপাসনার স্থান, মসজিদ ও মন্দির যতটা দূরে রাখা যায় ততই ভাল। কারণ দুই গোষ্ঠীই লাউডস্পিকার ব্যবহার করলে তার ফলে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটে। এতে বিদ্বেষ বাড়ে।’’

তাঁরা আরও বলেছিলেন, ‘‘শান্তি আনার জন্য মসজিদকে মর্যাদা পুরষোত্তম শ্রীরামের পূণ্য জন্মভূমি থেকে যথাযথ দূরত্বে কোনও মুসলমান-অধ্যুষিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া যায়।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *