১০ বছর পর পাকিস্তানের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়

সময়টি ছিল ২০০৯ সালের মার্চ মাস; লাহোরের বিভীষিকাময় সেই দিনটিকে এত তাড়াতাড়ি ভোলার কথা নয় ক্রিকেটবিশ্বের। সেদিন লংকান ক্রিকেটারদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলায় বড় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও, লম্বা একটা সময় কোনো দল যায়নি পাকিস্তান সফরে।

দীর্ঘ ১০ বছর পর ডিসেম্বরে সেই শ্রীলংকা দলের হাত ধরেই আবারও ফিরল টেস্ট ক্রিকেট পাকিস্তানের মাটিতে। এবং দশ বছর পর দেশের মাটিতে ফেরা টেস্ট সিরিজ জিতে নিলো পাকিস্তান। করাচিতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে সফরকারী শ্রীলংকাকে ২৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারায় পাকিস্তান। লঙ্কানদের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বড় ব্যবধানে জয়। ফলে দু’ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতে নিলো পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম টেস্ট বৈরি আবহাওয়ার কারণে ড্র হয়।

চার ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ৫৫৫ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। এতে ম্যাচ জয়ের জন্য ৪৭৬ রানের টার্গেট পায় শ্রীলংকা। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ২১২ রান করেছিলো শ্রীলংকা। ফলে ম্যাচ জিততে শেষ দিন ৩ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ২৬৪ রান করতে হতো লঙ্কানদের। টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত থাকেন ওপেনার ওসাদা ফার্নান্দো। ১৩টি চারে ১৭৫ বলে ১০২ রান করেছিলেন ফার্নান্দো। পঞ্চম ও শেষ দিন কোন রান যোগ না করেই আউট হন তিনি। তাকে শিকার করেন পাকিস্তানের স্পিনার ইয়াসির শাহ।

অবশ্য শ্রীলংকাও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। শেষদিন মাত্র ১৬ বল মোকাবেলা করে ২১২ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। অর্থাৎ বাকী ৩ উইকেট থেকে কোন রানই যোগ করতে পারেনি তারা। পতন হওয়া তিন উইকেটের মধ্যে দু’টিই নিয়েছেন ডান-হাতি পেসার নাসিম শাহ। তার শিকার হন টেল-এন্ডার দুই ব্যাটসম্যান লাসিথ এম্বুলদেনিয়া ও বিশ্ব ফার্নান্দো। ফলে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট শিকারের স্বাদ নেন নাসিম। ৩১ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি।

ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন পাকিস্তানের আবিদ আলি। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ১৯১ ও শ্রীলংকা ২৭১ রান করেছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *