১৫ বছরেও শেষ হয়নি হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: বাংলা সাহিত্যের প্রথাবিরোধী লেখক তিনি। ছিলেন একাধারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ভাষাবিজ্ঞানী। তিনি হুমায়ুন আজাদ। আজ ২৭ ফেব্রুয়ারি। ২০০৪ সালের এদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে বইমেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসায় ফেরার পথে বহুমাত্রিক এই লেখকের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাকে হত্যার ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। তবে এখনও শেষ হয়নি তাকে হত্যাচেষ্টা মামলার বিচার কাজ।

প্রথমে মামলাটি ‘হত্যা চেষ্টা’হিসেবে দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে চার্জশিট দেয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকার চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। এ  মামলায় ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষগ্রহণ শেষে আগামী ২১ মার্চ আসামিদের ‘এক্সামিন’এর জন্য দিন ধার্য রেখেছেন আদালত।

তবে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ১০জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২১ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত।

মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, মামলাটির বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিষয়টি কবে নাগাদ শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

২০০৪ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ দেশে ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেন তিনি। ওই বছরের ৮ আগস্ট যান জার্মানির মিউনিখে। সেখানে ১১ আগস্ট মারা যান এই ভাষাবিজ্ঞানী।

ওই হামলার পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় হুমায়ুন আজাদের ছোটভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা করেন। যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পরে ২০০৭ সালে ১৪ নভেম্বর দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে এ মামলায় পৃথক দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

এর মধ্যে হত্যা মামলায় পাঁচজন ও বিস্ফোরক আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক কাজী আবদুল মালেক। পরে এ মামলায় ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে হুমায়ুন আজাদের ভাই ও মামলার বাদী মঞ্জুর কবির মামলার বর্ধিত তদন্তের আবেদন করেন। আদালত ওই বছরের ২০ অক্টোবর মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন সময় মামলার তদন্ত করেন রমনা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমান ও লুৎফর রহমান।

২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জেএমবির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেন তৎকালীন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. হাবিবুর রহমান।

আসামি মিজানুর রহমান ও আনোয়ারুল আলম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা বলেন, ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বইটি লেখার কারণে হুমায়ুন আজাদের ওপর এ হামলা চালানো হয়। যার পরিকল্পনা করেন সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই।

মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন- হাফিজ মাহমুদ, সালেহীন ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। এর মধ্যে সাবু ছাড়া বাকি আসামিরা কারাগারে। আর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় মিজানুর রহমান, আনোয়ারুল আলম ও নুর মোহাম্মদ ওরফে সাবুকে আসামি করা হয়েছে।

অন্য একটি মামলায় জঙ্গিনেতা শায়ক আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, খালেদ সাইফুল্লাহর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হওয়ায় মামলার অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

এছাড়া মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীসহ আরও পাঁচজনের নাম।ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *