৩৬ বছর আগের মৃতদেহ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো নতুন রহস্য!

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩৬ বছর আগে মিউজিক ক্লাসে শেষ দেখা গেছিল ১৫ বছরের কিশোরী ইম্যানুয়েলা অর্লান্ডিকে। হাসিখুশি চনমনে মেয়েটি মিউজিক ক্লাসের পরেই যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। ভ্যাটিকান সিটির বাসিন্দা ইম্যানুয়েলাকে খুঁজে পেতে পুরো দেশটাতেই তল্লাশি চালালো পুলিশ। কিন্তু কোথাও পাওয়া গেল না তাকে। এরপর একে একে পেরিয়ে গেল ৩৬টি বছর। অথচ কেউ জানতে পারলো না কোথায় হারিয়ে গেলো সেই গানপাগল মেয়েটি।

ইম্যানুয়েলা হারিয়ে যাওয়ার পর একটি খবর ভ্যাটিকানে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, একজন আছেন যিনি জানেন ইম্যানুয়েলার কী হয়েছিল। কিন্তু ভয়ে তিনি মুখ খুলতে পারছেন না। কিন্তু সেই তিনিটা যে কে সেটা জানা যাচ্ছিল না কিছুতেই। হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল নানা কথা। ইম্যানুয়েলার বাবা ছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ দ্বিতীয় জন পলের একজন কর্মী। ফলে পুলিশের ওপরেও চাপ ছিল যত দ্রুত সম্ভব ইম্যানুয়েলাকে যেন খুঁজে বের করা হয়। কিন্তু কোনো কিছুতেই ইম্যানুয়েলার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ইম্যানুয়েলার পরিবারের কাছে একটা উড়ো ছবি আসে। যাতে দেখা যায়, একজন নারী ভ্যাটিকানের টিউটনিক সমাধিক্ষেত্রের একটি বিশেষ সমাধির দিকে আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, ওই সমাধিতেই রয়েছে কিশোরী ইম্যানুয়েলার দেহ। তাকে ৩৬ বছর আগেই সেখানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ভ্যাটিকান রেকর্ড ঘেঁটে দেখে ওই সমাধিতে এক প্রিন্সেসকে উনবিংশ শতাব্দীতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। পরে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ সমাধি খুঁড়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।

সেন্ট পিটারস ব্যাসিলিকার কাছে ওই সমাধিক্ষেত্রে এমনিতে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ। লোহার কারুকার্যমণ্ডিত গেটের ভিতরে সারি সারি পাথরের সমাধি। গাছপালায় ঢাকা নিরিবিলি ওই সিমেট্রিতে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ও ফরেন্সিক টিমের সদস্যরা অভিযান চালায়। ইম্যানুয়েলার আত্মীয়বন্ধুরাও সেখানে উপস্থিত ছিল।

পাশাপাশি দুটো সমাধি খুঁড়ে দেখা হয়। এই দুটি সমাধিতে দুই বোন, দুই প্রিন্সেসকে কবর দেওয়া হয়েছিল ১৮৩৬ ও ১৮৪০ সালে। কিন্তু সমাধি খোঁড়ার পর যা সামনে এলো তাতে রহস্য আরও ঘনীভূত হলো। দেখা গেল, ইম্যানুয়েলা তো দূরে থাক, সেই দুই প্রিন্সেসের দেহাবশেষও নেই সেখানে। দুটি সমাধিই পুরোপুরি শূন্য। ৩৬ বছর আগের রহস্যের সমাধান করতে এসে বেরিয়ে এলো নতুন রহস্য।

ইম্যানুয়েলা কোথায়? দুই প্রিন্সেসের দেহই বা কোথায়? সুরক্ষিত একটি সমাধিক্ষেত্র থেকে কীভাবে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল দুটি দেহাবশেষ? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে এখন অস্বস্তিতে পড়ে গেছে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *