প্রবাসসাক্ষাৎকার

আমরা নির্বাচিত হলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবন বানিয়ে দেব: মইনুল ইসলাম

নিউ ইয়র্কে প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বড় সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন। আগামী ৫ জুন সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আগে থেকেই এর নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারণার কাজে নেমেও পড়েছেন। প্রতিষ্ঠার আটত্রিশ বছর ধরে জালালাবাদ এসোসিয়েশন নিউ ইয়র্ক বাঙালী কমিউনিটিতে একটি গুরত্ববহ অবস্থান নিয়ে রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যাও কম নয়। সংখ্যাটি দশ হাজারকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে বর্তমানে সংগঠনটির ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার ৬৪৮ জন। এবং আজীবন সদস্য ও ভোটার সংখ্যা ৪শ’ ৪৪ জন। সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯২ জন।

এবারের নির্বাচনে পুর্ণাঙ্গ প্যানেল একটি। সেটি বদরুল-মইনুল পরিষদ। এবারের নির্বাচনে সকলের দৃষ্টি কেড়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন নিউ ইয়র্কের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ি ও রূপসী বাংলার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মইনুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রূপসী বাংলা সঙ্গে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মইনুল ইসলাম কথা বলেছেন নির্বাচন, নির্বাচিত হলে তার পরিকল্পনা এবং সংগঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে । মইনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন রূপসী বাংলার নির্বাহী সম্পাদক মুবিন খান


রূপসী বাংলা: শুরুতে আপনার কাছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন সম্পর্কে জানতে চাইছি। মূলত এটি কি ধরনের সংগঠন? এই সংগঠন কি ধরনের কাজ করে থাকে?

মইনুল ইসলাম: জালালাবাদ এসোসিয়েশন অঞ্চল ভিত্তিক তো একটি নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন। এবং নিউ ইয়র্কের অন্যতম বড় একটি সংগঠন। আমরা মানবতার সেবাতেই কাজ করি। যেমন ধরুন, করোনা ভাইরাস মহামারির সময়টিতে আমরা মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করেছিলাম। সেসময় থেকে প্রায় তিনটি বছর সবকিছু প্রায় স্থবির হয়েছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মানুষকে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছি। আবার ধরুন বাংলাদেশ থেকে কিংবা অন্য দেশ থেকে যে সব বাংলাদেশিরা এখানে আসেন, তাঁদের অনেকেরই অনেক সময় কাগজপত্র নিয়ে সমস্যা হয়, অনেকের কাগজপত্র থাকেও না। আমরা তাঁদেরকে আইনি সহায়তা দিই। তাঁদের সমস্যাগুলো সমাধানে সাধ্যমত সহযোগিতা করতে চেষ্টা করি। এসব ছাড়াও খাদ্য সহযোগিতা, শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণ -এমন নানান কর্মকাণ্ড যার সবই মানুষের কল্যাণে। এবং সবটাই অলাভজনক।

রূপসী বাংলা: আপনি রিয়েল এস্টেট মাধ্যমে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও আপনি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের মতো সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কেন?

মইনুল ইসলাম: দেখুন, জালালাবাদ এসোসিয়েশন তো একটি অঞ্চল ভিত্তিক সংগঠন। সেকারণে ফলে যারা সিলেট অঞ্চলের মানুষ তাঁদেরই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। কেননা এটিকে কেবলই একটি সংগঠন হিসেবে দেখবার সুযোগ নেই। এটি আসলে নাড়ির টান। এবং বিদেশের মাটিতে এই সংগঠনটি আমার দেশের, আমার অঞ্চলের মানুষদেরকে একটি ছাতার নীচে ঐক্যবদ্ধ হতে প্ররোচিত করে। এর মাধ্যমে আমি আর আমি থাকছি না, আমি তখন আমরা হয়ে যাচ্ছি।

রূপসী বাংলা: আমরা জেনেছি আপনি জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন? দীর্ঘ একটা সময় ধরে আপনি এই সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাধারণ সম্পাদক হতে চাইছেন কেন? আর আপনি যদি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন – সেক্ষেত্রে আপনি কি পরিবর্তন আনবেন? কিংবা এভাবেও বলা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে সংগঠন আপনার কাছ থেকে কি পাবে?

মইনুল ইসলাম: আমাদের এই জালালাবাদ এসোসিয়েশন আজকের নয়। এর বয়স আটত্রিশ বছর হয়েছে। এর মোট সদস্য এখন এগারো হাজারেরও বেশি। কিন্তু দেখেন, এত পুরনো ও প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন কিন্তু আমাদের কোনো নিজস্ব ভবন নেই। এটি থাকার কথা ছিল এবং উচিতও ছিল। তো যে কারণেই হোক নিজস্ব ভবন হয় নি। আমি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছি, ভোটাররা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবন আমি করে দেব। এবং সেটা নির্বাচিত হওয়ার একশ’ দিনের মধ্যেই কাজটি করব। এটি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি…

রূপসী বাংলা: মানে যেদিন নির্বাচন তার পরদিন থেকে হিসেব করে তিন মাস দশ দিনের মধ্যে আপনি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন?

মইনুল ইসলাম: হ্যাঁ, ফলাফল ঘোষণার পরদিন থেকে একশ’ দিনের মধ্যে। একই সঙ্গে আপনার মাধ্যমে আমি সকলকে এটাও জানাতে চাই, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ওই ভবনটি নিউ ইয়র্কের চার ডিস্ট্রিক্টের সকল সংগঠন ব্যবহার করতে পারবে আর এজন্যে তাঁদেরকে কোনো মূল্য বা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে না। এটি আমরা সম্পূর্ণ ফ্রিতে ব্যবহার করতে দেব।

রূপসী বাংলা: একটু আগে পরিবর্তন আনবার কথা বলছিলেন। সেটা একটু জানতে চাই। কি ধরনের পরিবর্তন আনবেন?

মইনুল ইসলাম: জালালাবাদ এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা হয়েছে আটত্রিশ বছর হয়ে গেল। পুরনো সকলে এখন নেই সেকথা সত্যি। কিন্তু একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বও তেমন উল্লেখযোগ্য ভাবে আসে নি। আমি চাই তরুণ যারা তারাও এগিয়ে আসুক। আমার এই চাওয়াটি কমিউনিটির স্বার্থেই। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তারা বড় হচ্ছে ভিন্ন এক সমাজে ভিন্ন রকম সমাজ ব্যবস্থায়। তাদেরকে যদি আমরা আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করি তাহলে তারাও আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠল একই সঙ্গে এদেশে তাদের যা অর্জন তা থেকেও সংগঠন অনেক কিছু পাবে বলে আমার মনে হয়।

রূপসী বাংলা: আমাদেরকে সময় দেবার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

মইনুল ইসলাম: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension