মুক্তমতমুক্তিযুদ্ধ

আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধ

মামুন রেজা


৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। …এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা হতে থাকে সারা দেশে। পাড়া মহল্লা গ্রাম গঞ্জে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ সংগঠিত হতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য। ২৫ মার্চ সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতেও গুলি বর্ষণ করে পাক হানাদার বাহিনী। আমি তখন রাজশাহী গার্লস স্কুলে ক্লাস টুর ছাত্র। আমার বয়স প্রায় সাত বছর।

ইতোমধ্যে রাজশাহী শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের বাড়ি হেতেম খাঁ মহল্লায়। ক্যান্টনমেন্ট থেকে আর্মির গাড়ি প্রায় চলাচল করত আমাদের পাড়ার রাস্তা দিয়ে। এজন্য এলাকার মানুষ সব সময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকতো। তাই বলে পাড়ার সাহসী যুবকরা বসে থাকল না। এক সঙ্গে বসে তারা ফন্দি আঁটতে থাকলেন কি করে পাড়ার মধ্য দিয়ে পাক আর্মির যাতায়াত বন্ধ করা যায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দিনই ইট আর কাঠের গুঁড়ি দিয়ে রাস্তা বন্দ করে দেওয়া হলো। পাড়ার সাহসী যুবক নূরুন্নবী চাঁদ (সাবেক খাদ্য প্রতিমন্ত্রী), তাঁর বড় ভাই আসাদ, সুরুজ, নাট্যশিল্পী নূর মহম্মদ (সাহেব), নূরুজ্জামান ভোলা, সূর্য, তারা, টনি, পল্টু পেঁয়াজুর দোকানদার হাবল শেখ, আনশার আলী, সালেক, সাহিদ, বাবুল, শফিউদ্দিন, নজরুল পাঝরাসহ নাম না জানা আরও অনেকেই এ কাজে নেমে পড়লেন। তারা হেতেম খাঁ গোরস্থানে বসে বাল্ব এর মধ্যে পেট্রোল ভরে আগুনে বোমা বানালেন। সিদ্ধান্ত হলো পাড়ার যুবকেরা রাস্তার ধারের বাড়িগুলোর ছাদে ওঁত পেতে থাকবে পেট্রোল বোমা, ইট পাটকেল নিয়ে। আর্মিরা পাড়ার রাস্তা দিয়ে আসার চেষ্টা করলেই তাদের ওপর সেগুলো ছুঁড়ে মারা হবে। তাদের একটি দল রাস্তার ধারে আড়ালে লুকিয়ে থাকবে। প্রয়োজনে তারা সম্মুখ সমরে নামবে। লাঠি বলম দিয়ে পাকিস্তানি আর্মিকে প্রতিরোধ করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই প্রস্তুত। কিন্তু সৌভাগ্যবশত সেদিন পাক আর্মির গাড়ি আমাদের পাড়ার রাস্তা ব্যবহার করে নি। তারা এলে পাড়ার মধ্যে একটা লঙ্কাকাণ্ড বেধে যেত। হয়ত তা হতো আমাদের জন্য বিপর্যয়কর এবং মর্মান্তিক। কারণ সেটি হতো এক অসম যুদ্ধ। যুবকদের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। এখন বুঝতে পারি আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত পাকিস্তানিরা সেদিন এলে আমাদের মহল্লায় একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটত।

৮ এপ্রিল ইপিআরের সাবেক সেনা সদস্য পুলিশ-ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা শহরের মধ্যে একত্রিত হয়ে চারিদিক থেকে রাজশাহী সেনানিবাস ঘিরে ফেললেন। অন্য আর একটি দল পূর্বদিক থেকে নাটোর রোড ধরে এগিয়ে এসে সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগ দিল।

পরিস্থিতি জটিল বিবেচনা করে আমরা ও মামা নূরুল মহসিন সরকারের (মেশু) বাড়ির সকলে মিলে কাজলায় মামার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। সে সময় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী লোক ছিলেন। চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন মোল্লা নামে তিনি সর্বশেষ খ্যাত ছিলেন। তাঁর বাড়িতে সেসময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের পরিবারও আশ্রয় নিয়েছিলেন।

১২ এপ্রিল রাজশাহী শহরে পাকিস্তানি বিমান থেকে বিভিন্ন স্থানে বোমা ও গোলাবর্ষণ করে। মনে আছে ওই সময় নানা মফিজ উদ্দিন মোল্লার বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ের মধ্যে মাটি কেটে ট্রেঞ্চ করা হয়েছিল। কানে তুলা দিয়ে আমরা সেখানে আশ্রয় নিতাম। পরে জেনেছিলাম আমাদের বাড়ির পাশে মুসলিম হাই স্কুলে বোমা ফেলা হয়েছিল কারণ সেখানে ইপিআরসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ছিল। সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে স্কুলে বোমা না পড়ে পাশে চিকনি পুকুরে পড়ে। ফলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় নি। তবে বোমা ও গুলির আঘাতে হেতমখাঁ এলাকার মো. আনসার আলীর পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে বেবী মারা যায় এবং লাল চাঁদ নামের এক ব্যক্তির ফুপু ও উমেদা নামের এক বৃদ্ধা গুলিবিদ্ধ হয়।

বিমান থেকে হামলার ঘটনায় শহরবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রয়োজনীয় আগ্নেয়াস্ত্র না থাকায় রাজশাহী সেনানিবাস অবরোধ ব্যর্থ হয়। শুনেছি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ৯ জন বাঙালী ইপিআর শহীদ হন। নানী বাড়ি থাকাকালীন একটি ঘটনা ঘটেছিল যা আজও মনে পড়লে হাসি পায়। এক রাতে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে আমার মামা মেশু ও আম্মা প্রাণ ভয়ে আমার বড় বোন জেসমিনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভাইবোনসহ সবাইকে ফেলে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তারা সারারাত দৌড়ে কয়েকটি গ্রাম পার হয়ে চলে যান বহু দূরে। একদিন পর যখন জানতে পারেন যে, সেই রাতে মুক্তিবাহিনী এক অপারেশনে এসেছিল এবং তারা অপারেশন শেষে নানার বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করে ফিরে যান। এ খবর জানার পর তারা ফিরে আসেন। সে কথাটা মনে পড়লে এখনও হাসি পায়। সেদিন মামা আমার আম্মাকে নিয়ে, বাড়ির সবার কথা ভুলে পালিয়েছিলেন। এ জন্য মামী প্রায়ই মামাকে কটাক্ষ করে বলতেন- তুমি নিজের বৌ ছেলে মেয়েকে ফেলে রেখে শুধু বোনকে নিয়ে পালিয়ে গেলে, আমাদের কথা ভাবলে না!

তারিখটা মনে হয় ১৩ এপ্রিল, বিকাল বেলায় মামা এসে বললেন, এখনই ভারতে চলে যেতে হবে, না হলে সবাইকে মরতে হবে। তাড়াহুড়ো করে সবাই তৈরি হচ্ছে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আমার মা কাঁদতে লাগলেন। কারণ চাকরির সুবাদে আব্বা তখন নওগাঁয় অবস্থান করছিলেন। তাই তিনি ভারতে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু মামা-মামী আমাদের ছেড়ে কিছুতেই যেতে চাচ্ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে আম্মা ভারতে যেতে সম্মত হলেন। আমরা সকলে ভারত যাওয়ার জন্য নদীর ধারে গেলাম। নৌকায় উঠলাম। কিন্তু নৌকায় এত লোক উঠেছে যে ডুবে যেতে পারে। এ অবস্থা দেখে আম্মা বলে উঠলেন, আমি আমার ছেলে মেয়েদের নিয়ে নৌকা থেকে নেমে পড়ি। কিন্তু আমার মামী হাসিনা বেগম আম্মাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, না তুমি নামবে না। অবশেষে আমাদের নৌকা ছাড়ল। নৌকা বেশ কিছু দূর চলে আসার পর পাকিস্তানি বাহিনী নদীর ধারে এসে আমাদের নৌকাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে লাগল। গুলির আওতার বাইরে থাকায় আমরা বেঁচে গেলাম। চরে একটি বাড়িতে আশ্রয় পেলাম। সে রাতে ভীষণ ঝড়-বৃষ্টি হলো। ঝড়ের সময় বড়রা ঘরের চালা ধরে ঝুলছিল, মহিলাসহ ছোটরা ঘরের বাঁশের মাচার ওপরে বসে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকছিল। ঝড় থামলে দেখি ঘরের মধ্যে হাঁটু পানি। আমরা অনেক কষ্টে রাত কাটালাম। সকালে উঠে আমাদের নানী জমেলা বেগম একটি রুটি ভাগ করে একটু আখের গুড় দিয়ে খেতে দিলেন। রুটি খেয়ে আমরা ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। অনেক পথ হাঁটতে হলো। সবাই ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমরা অতি কষ্টে কাতলামারী বায়ুযুত পাড়া, রানীনগরে দূর সম্পর্কের চাচা মো. খবির উদ্দিন সরকারের বাড়িতে পৌঁছালাম। তারা আমাদের সকলকে সসম্মানে তাদের বাড়িতে থাকতে দিলেন। কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার ভীষণ কষ্ট হতে লাগল। গমের দোলা, খুদের মাড়ি ভাত, এক বেলা অর্ধেক রুটি খেয়ে দিন কাটতে লাগল। রাতে ঘুমানোর জন্য যে ঘর দেওয়া হলো তাতে কোনো খাট বা চৌকি ছিল না, মাটির ওপরে আউড় বিছিয়ে ঘুমাতে হতো। আমার বেশ মনে পড়ে বাড়ির পাশে জমিতে মিষ্টি আলুর ক্ষেত ছিল। আমরা প্রায় সেখানে যেয়ে মিষ্টি আলু তুলে খেতাম। মেওয়া আতা গাছ থেকে পড়ে এনে আউড়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখে পাকিয়ে খেতাম। একদিন আমার মামা নূরুনবী চাঁদ (সাবেক খাদ্য প্রতি মন্ত্রী) ভারতে এলেন এবং আম্মার সঙ্গে দেখা করে বাড়ির খবর জানালেন। বললেন, আমার আব্বা রমজান আলী ভালো আছেন। তিনি কয়েকবার ভারতে আসার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু নদীর ধারে পাক আর্মির তাড়া খেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মামা কলকাতা যাওয়ার সময় আম্মাকে কিছু টাকা দিয়ে গেলেন। এইভাবে কয়েক মাস কেটে গেল। আম্মা এখানে আর থাকতে চান না। নিজ দেশে স্বামীর কাছে যাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। তখন নভেম্বর মাস হবে। আমাদের এলাকার হাতেম নামের এক বড় ভাইয়ের দেখা পেয়ে আমার আম্মা জেদ ধরলেন তুমি আমার ছেলেমেয়েসহ আমাকে নিয়ে চল, সবাই বাধা দিতে লাগলেন। কিন্তু আম্মা নাছোড়বান্দা। তাই এক সময় সম্মতি পাওয়া গেল। হাতেম ভাই আমার ছোট এক ভাই রনি ও ছোটবোন দিনাকে দুই কাঁধে নিয়ে হাঁটতে লাগলেন। আম্মা, বড় বোন জেসমিন ও আমি হেঁটে হেঁটে নদীর ঘাটে এলাম এবং নৌকায় চড়ে দরগার ঘাটে এসে পৌঁছলাম। রাস্তায় উঠতেই এক মহিলার সঙ্গে দেখা হলো। তিনি বললেন, সব শেষ করে দিয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী বাজার-হাট সব পুড়িয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেলেছে। এখনও ভয়ংকর অবস্থা চলছে। তোমরা এখনই এখানে এলে কেন? আম্মা কাঁদতে লাগলেন এবং বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, মনে হয় তোদের আব্বাকে তারা মেরে ফেলেছে। ভয়ে ভয়ে গলিপথ দিয়ে হেতমখাঁ বাড়ি রদিকে হাঁটতে লাগলাম। রাস্তা একেবারে মানুষজন শূন্য, খাঁ খাঁ করছে। চারিদিক ভূতুরে পরিবেশ।

বাড়িতে এসে শুনলাম আব্বা চাকরির স্থল নওগাঁয় গেছেন। আমরা হেতমখাঁর বাড়ি ছেড়ে যাবার সময় আম্মা আমাদের ভালো ভালো জিনিসপত্র নানির বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন। নানির বাড়িতে পাকিস্তানি আর্মি ও স্থানীয় আলবদর, রাজাকারসহ এসে শাড়ি, গহনাসহ দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। আম্মা বুঝতে পারলেন এ পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসা ঠিক হয় নি। দেশে ফিরে আসার পর বড় কষ্টে দিন কাটতে লাগল। কষ্ট যতই হোক ক’দিনের মধ্যেই সুখবর আসতে লাগল। হানাদার পাকিস্তানি সেনারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভীষণ মার খাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তারা পরাস্ত হয়েছে আমাদের মুক্তি যোদ্ধাদের কাছে। ১৬ ডিসেম্বর ভোর বেলায় চারিদিক থেকে গোলাগুলি আর প্রচণ্ড হৈচৈয়ের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে গেল। আম্মা বললেন, বড় আনন্দের কথা। আমাদের দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। তাই মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে আর মুক্তিপাগল সাধারণ মানুষ মুক্তির আনন্দে নেমে এসেছে রাস্তায়। তাই অতি সকালেই মানুষজন স্লোগানে স্লোগানে আকাশ বাতাস মুখোর করে তুলেছে। তারই শব্দ। এত শব্দ নয়! বিজয়ের আনন্দ। বাড়ির বাইরে এসে দেখলাম সবাই আনন্দ উল্লাস করছে। সবার মুখে জয় বাংলা ধ্বনি। পাড়ার বড় ভাই সোলাইমান কবির মৃধা (টিটু) ও বর্তমানে রাবিতে চাকরিরত আক্তার ভাইয়ের নেতৃত্বে জহুর, বরজহানা, নূরুল, শুকুরসহ আরও অনেকে একত্রিত হয়ে বললেন, চলো আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানিয়ে আসি। দরগা পাড়ায় আমাদের মুক্তিবাহিনীর ছেলেরা এসেছেন। চলো দেখে আসি তাদের। টিটু ভাই স্লোগান ধরলেন ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ আমরা সবাই তার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে লাগলাম ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’। দরগাপাড়ায় গিয়ে মুক্তিবাহিনীর দেখা পেলাম। তাদের দু’চোখ ভরে দেখতে লাগলাম। দেখলাম শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের মতো মুক্তিসেনাদের দেখতে এসেছেন অনেকে। ভীষণ ভিড়। আমাদের বড়ভাইয়েরা আমাদের সামলাচ্ছেন। বেশ কিছুক্ষণ পর আমরা মুক্তির আনন্দে স্লোগান দিতে দিতে বাড়ির দিকে রওনা হলাম।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সদস্য, ইউএস ভিত্তিক বাংলা চ্যানেলের রাজশাহী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত/ লেখাটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাব থেকে প্রকাশিত ‘সূর্যোদয়’ সংকলনে ছাপা হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension