ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী নির্দোষ!

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে আকস্মিকভাবে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর দায়ে ব্রেন্টন হ্যারিসন টারান্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৫১ জন মানুষকে হত্যা, ৪০ জন মানুষকে হত্যার চেষ্টা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একটি অভিযোগসহ মোট ৯২টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

কিন্তু ওই হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে টারান্টের প্রতি। সে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

১৩ জুন বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চ কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে হাইকোর্টে হাজিরা দেয় টারান্ট। এসময় তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং নিজেকে নির্দোশ হিসেবে দাবি করেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ই মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজ চলার সময় আকস্মিকভাবে মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় টারান্ট। এ সময় ঐ হামলায় পাঁচজন বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হয়েছিলেন।

প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডে কারো বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হলো।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চ কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে হাইকোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় ওই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের কয়েকজন এবং নিহতদের স্বজনেরা শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মিঃ টারান্টের আইনজীবী যখন নিজেকে নির্দোষ দাবী করে তার মক্কেলের দেয়া বিবৃতি পড়ে শোনান, আদালত কক্ষে তখন উচ্চ কক্ষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এসময় উপস্থিত নিহতদের পরিবার এবং আহতরা আদালতেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

এ সময় বিচারক বলেছেন, আগামী বছরের ৪ঠা মে পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম চলবে, আর ১৬ই অগাস্ট পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত কারাগারে মিঃ টারান্টের রিমান্ড চলবে।

এপ্রিলে যখন টারান্ট আদালতে হাজিরা দিয়েছিলেন, তাকে মানসিক চিকিৎসা নেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আর তার সুস্থতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন বিচারক।

মসজিদে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পরই গ্রেপ্তার হন টারান্ট, এরপর ১৬ই মার্চ তাকে প্রথম আদালতে হাজির করা হয়। হামলার সময় মাথায় স্থাপন করা ক্যামেরা দিয়ে মসজিদে হামলার পুরো ঘটনা সরাসরি ইন্টারনেটে প্রচার করছিল ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক টারান্ট। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *