প্রবাস

জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ভবন ক্রয় নিয়ে বিরোধ ও সাধারণ সম্পাদক মইনুলকে শোকজ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের অন্যতম সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ভবন ক্রয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ সম্পাদক মইনুলকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শোকজ নোটিশটি সংগঠনের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে এর পক্ষে ও বিপক্ষে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি এস্টোরিয়ায় সংগঠনের জন্যে একটি কেনা হয়। ভবন কেনার অর্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ফান্ড থেকে নেওয়া হয়। গত ১০ জানুয়ারি (সোমবার) জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ফয়সল আলম জানান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, মইনুল ইসলাম সংগঠনের নামে না কিনে ব্যক্তির নামে ভবনটি কিনেছেন।

গত ৮ জানুয়ারি (রোববার) এ ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ভবনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন অভিহিত করে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ভবন বলে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন সভাপতি বদরুল খানসহ কমিটির ১৩ সদস্য।

মইনুল ইসলামের বক্তব্য
এ প্রসঙ্গে ১১ জানুয়ারি (বুধবার) রাাতে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের নোটিশের ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম বলেন, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ ইনভ্যালিড। আমি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। ট্রাস্টিবোর্ড কখনোই তাদের সিদ্ধান্ত আমাকে লিখিতভাবে দেননি। তারা এক মধ্যরাতে অন্ধকার বেজমেন্টে বলেছিল। আমি তা অনেককেই জানিয়েছিলাম। দয়া করে সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শেফাজের সাথে কথা বলুন। কারণ ভবনটি কেনা হয়েছিল গত কমিটির মাধ্যমে। আমি মইনুল চৌধুরী ও শেফাজের সাথে লিগ্যাল এগ্রিমেন্ট ও রিলিজপত্র স্বাক্ষর করেছিলাম। আমি এটা করেছি শুধু ট্রানজিশনাল পিরিয়ডের জন্য। যখনই আমি ৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের মর্টগেজ ও অন্যান্য খরচের দায় থেকে মুক্ত হবো তখনই ক্রয়কৃত ভবনটি জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকেরর কাছে ট্রান্সফার করতে বাধ্য থাকব।

সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম আরও বলেন, এই ভবনটির দাম এখন ১.৫ মিলিয়ন ডলার। আমার বোধগম্য হচ্ছে না বর্তমান সভাপতি কেন কমিউনিটি, কার্যকরি কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ডে এই ভবনের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াচ্ছেন। আমি কোনো ভাবেই এই মুল্যবান সম্পদ হাতছাড়া হতে দেব না। এসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যরাই এই ভবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। ৫ জনের গ্রুপে কাজ হবে না (এটাই হচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্টের খারাপ নেতৃত্ব)। সবাই জানেন, ফিলাডেলফিয়ার ভবন তিনিই বিক্রি করেছিলেন। তিনি সবাইকে রেখেছিলেন অন্ধকারে। তিনিই বিনা প্রয়োজনে এস্টোরিয়ায় অফিস ভাড়া করে অর্থ অপচয় করেছেন। মইনুল ইসলাম বর্তমান সভাপতির উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি কি এমন একটি প্রোপার্টি কিনতে পারবেন? আমি নিশ্চিত, তা আরও ৩০ বছর লাগবে। হেটারসরা এসে অফিসটি দেখে যান । তারপর বিরোধিতা করুন।

প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের এক সদস্য বলেন, আজ আমাদের সংগঠনটির কাঁধে চেপে যে প্রচারণাটি চালানো হলো তাতে আমাদের গর্বের জায়গাটিকে লজ্জা এসে দখল করে নিল।

তিনি বলেন, মইনুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কাজটি কে বা কারা করেছেন আমি জানি না, কিন্তু যিনি বা যারাই করে থাকুন- তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা ফেসবুক পেইজ করাই হয় প্রচারণার লক্ষ্যে। এতে সংশ্লিষ্টরা মানুষকে তাদের ভালো ও বস্তুনিষ্ঠ কাজগুলো জানাবেন। ব্যক্তি বা সমষ্টির অভ্যন্তরের সমস্যা কখনই এভাবে পাবলিকলি তুলে ধরা যায় না। মইনুল ইসলাম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সংগঠনের বিধি অনুযায়ীই তাঁকে নোটিশ দিতে হবে। সে নোটিশ জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের অফিসিয়াল প্যাডে লিখে খামে বন্ধ করে তাঁর হাতে দিতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক সদস্য বলেন, জালালাবাদের নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছে কিছু মানুষ। মানুষে মানুষে সমস্যা থাকতেই পারে, থাকবেই। তার সমাধানও আছে। কিন্তু আড়ালে বিরোধিতা, কুৎসা রটানো, মন্দ প্রচারণা- এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আর কারো নয়, আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি করছে। এই আমরা হলাম নিউ ইয়র্কে বসবাস করা বাংলাদেশী কমিউনিটি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension