নিউ ইয়র্ক

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন ঘনিয়ে এলো, জলবায়ু প্রস্তুতি নিয়ে কুমোর তীব্র সমালোচনা

শাহ্ জে. চৌধুরী

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রার্থীরা যখন শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো শহরের দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্যে তীব্র সমালোচনা করে আলোচনায় ফিরেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে কুমো বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। নিউইয়র্ক সিটি এখনও প্রস্তুত নয়। বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জরুরি সেবার সমন্বয়হীনতা—সবই প্রমাণ করে আমরা ঝুঁকির মুখে আছি।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন মেয়রকে শপথ গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এখন আর অপেক্ষা করার সময় নেই।”

জলবায়ু ইস্যু নির্বাচনের কেন্দ্রে

কুমোর এই মন্তব্যের পর থেকেই জলবায়ু প্রস্তুতি ও পরিবেশ পরিকল্পনা মেয়র নির্বাচনের মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থী তাদের নিজ নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন একটি জলবায়ু-সহনশীল শহর গড়ার।

ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি বলেন, “জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নিম্নআয়ের পরিবার ও অভিবাসী কমিউনিটির ওপর। আমরা বারবার দেখেছি—ব্রঙ্কস, কুইন্স বা ব্রুকলিনে বাংলাদেশি, হাইতিয়ান, লাতিনো পরিবারগুলো ঝড়-বন্যায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ে। এই শহরে সমতা ও টেকসই অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না হলে, আমাদের সবারই ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।”

বাংলাদেশি কমিউনিটির কণ্ঠস্বর

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিও এই প্রশ্নে সচেতন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জামাইকা, জ্যাকসন হাইটস, ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় অতীতে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ফলে বাসিন্দারা ঘরছাড়া বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট হাসিবুর রহমান জানান, “আমরা শুধু প্রার্থীদের মুখে প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না, বরং দেখতে চাই কার্যকর পরিকল্পনা। যে নেতৃত্ব পরিবেশের কথা ভাবে, সেই নেতৃত্বই আমাদের নিরাপদ রাখতে পারবে।”

ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আগামী দিনে ভোটাররা কেবল রাজনৈতিক দিক দিয়ে নয়, বরং প্রার্থীদের বাস্তব সমস্যা মোকাবেলার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি এখন আর ভবিষ্যতের বিষয় নয়—এটি বর্তমানের বাস্তবতা। নিউইয়র্কের আগামী নেতৃত্ব ঠিক করবে, এই শহর কতটা প্রস্তুত একটি টেকসই ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension