
নির্দিষ্ট বক্তব্যকে সেন্সর করতে ফেসবুককে চাপ দেয় হোয়াইট হাউস
নির্দিষ্ট ধরণের বক্তব্যকে মুছে ফেলতে ফেসবুকের ওপর চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন। সম্প্রতি উদ্ঘাটিত কিছু নথি থেকে জানা যায় যে, নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টির ঝুঁকি থাকা সত্বেও ফেসবুককে এমনটা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকি মিমস বা নানা ধরণের হাস্যরসাত্মক পোস্ট রিমুভ করতেও ফেসবুকের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বাইডেন প্রশাসন।
আরটি জানিয়েছে, মার্কিন হাউসের জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্ডনার ওই নথিগুলো প্রকাশ্যে আনেন। কীভাবে বাইডেন প্রশাসন সরকারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে তা নিয়ে তদন্ত করছে তার প্যানেল। বৃহস্পতিবার জর্ডান বলেন, এসব নথি প্রমাণ করে যে- ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম মার্কিন সরকারের ‘অসাংবিধানিক’ চাপে বিভিন্ন পোস্ট সেন্সর করেছে এবং তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে।
নথিতে দেখা যায়, ২০২১ সালে ফেসবুকের এক কর্মকর্তা এর প্রধান মার্ক জাকারবার্গের কাছে একটি ইমেইল করেন। এতে তিনি বলেন যে, আমরা আমাদের অংশীদার, হোয়াইট হাউস ও গণমাধ্যমের কাছ থেকে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছি। তারা আমাদের কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। ওই ইমেইলে বলা হয়, ফেসবুকে কিছু মিমস শেয়ার করেন ব্যবহারকারীরা যাতে কৌতুক করে বলা হয় যে, কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণ মানুষের জন্য নিরাপদ নয়।
এই একই সময়ে ফেসবুকের ‘গ্লোবাল এফেয়ার্স’ সম্পর্কিত প্রধান নিক ক্লেগও একই ধরণের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসনের কোভিড-১৯ নীতির উর্ধতন উপদেষ্টা অ্যান্ডি স্লাভিট ফেসবুকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুক কেনো ভ্যাকসিনবিরোধী মিমস মুছে ফেলছে না তা নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।
তবে ক্লেগ বলেন, এভাবে ভিন্ন মতের কারণে একজনের পোস্ট ডিলিট করে দিলে তা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল হবে। কিন্তু স্লাভিট বলেন, এ ধরণের মিমস সরকারের ভ্যাকসিন জনপ্রিয় করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে।



