
প্রয়াত প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: চলে গেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ। মঙ্গলবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাজপেয়ী জামানার এই মন্ত্রী।
বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে তাঁর পরিবার সূত্রে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
অ্যালঝাইমার্স ও পারকিনসন্স রোগে ভুগছিলেন তিনি৷ সম্প্রতি সোয়াইন ফ্লুতেও আক্রান্ত হন বাজপেয়ী সরকারের প্রাক্তন এই মন্ত্রী। তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকালে ওই হাসপাতালেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩০ সালের ৩০শে জুন কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ করেন জর্জ ফার্নান্ডেজ৷ ট্রেড িউনিয়ন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি৷ এছাড়াও সাংবাদিকতা ও কৃষিবিজ্ঞানে পারদর্শী ছিলেন তিনি৷ বিহার থেকে প্রথম রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন ফার্নান্ডেজ৷
১৯৬৭ সালে তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। কংগ্রেসের এসকে পাটিলকে হারিয়ে দক্ষিণ বম্বে লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন। ১৯৭৪ সালে রেল ধর্মঘটের নেতৃত্বে তিনিই ছিলেন। তিনি তখন অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ফেডারেশনের সভাপতি।
জনতাদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ফার্নান্ডেজ৷ পরে গঠন করেন সমতা পার্টি৷ ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থার পর মুরারজী দেশাই মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী৷ বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোলমালের জেরে মার্কিন সংস্থা আইবিএম ও কোকা-কোলাকে দেশ থেকে চলে যেতে বলেছিলেন তিনি ।১৯৮৯-৯০ সালে ভিপি সিং মন্ত্রিসভায় তিনি সামলেছেন রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব৷ কোঙ্কন রেলওয়ে প্রকল্প তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব বলে বিবেচিত হয়৷
১৯৯৮-২০০৪ সাল পর্যন্ত অটল বিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্বে৷ এই সময়-ই কার্গিল যুদ্ধ হয়৷ পোখরানে পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত৷ ফলে বিশ্ব মানচিত্রে ভারতরে সমীহ করতে শুরু করে উন্নত রাষ্ট্রগুলি৷
তবে মন্ত্রী থাকাকালিন নয় বারের সাংসদ জর্জ ফার্নাডেজ জড়িয়ে পরেন বেশ কিছু বিতর্কে৷ বারাক মিসাইল স্ক্যানডেল ও তেহলকা কাণ্ড তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য৷ তবে জর্জের মৃত্যু ভারতীয় রাজনীতির একটি বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি৷
প্রাক্তন মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জর্জের মৃত্যু ভারতীয় রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করেন তাঁরা৷



