ফিলিস্তিনি গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ট্রাম্পের বিচার দাবি
গাজায় সহায়তা নিতে এসে ফিলিস্তিনিদের নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক এক মানবাধিকার সংস্থা।
শনিবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেনেভাভিত্তিক ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে—”গাজায় জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় যেভাবে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভূমিকা রয়েছে।”
মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, “গাজার গণহত্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সম্পৃক্ততা ছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তাকে অপরাধমূলকভাবে দায়ী করা এবং তার বিচার নিশ্চিত করা।”
জিএইচএফ যেসব বিতরণ কেন্দ্রে কাজ করে সেসব এলাকাকে ইসরায়েলি বাহিনী বারবার বিমান হামলা ও সরাসরি গুলি চালিয়েছে, এতে বহু অসহায় মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সংস্থার দাবি।
ইউরো-মেড মনিটরের মতে, বিভিন্ন ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, গাজায় সহায়তা নিতে আসা নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর হামলায় শুধু ইসরায়েলি সেনারা নয়, মার্কিন বেসরকারি নিরাপত্তা ঠিকাদাররাও জড়িত ছিলেন। এসব তথ্য সংস্থাটি আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলকে শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং সামরিক, আর্থিক, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে এসেছে। এই সহায়তাই গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে উস্কে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলি আগ্রাসনকে আরও বেশি উসকে দিয়েছেন। জিএইচএফ-এর বিতর্কিত বিতরণ মডেলকে সরাসরি সমর্থন দিয়ে তিনি দায় এড়াতে পারেন না।
জিএইচএফ বিতরণ কেন্দ্র ও গণহত্যার অভিযোগ
জিএইচএফ নামের ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে সমর্থিত একটি কাঠামো, যার অধীনে গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই কেন্দ্রগুলো বিভ্রান্তিকরভাবে মানুষের ভিড় তৈরি করে, তারপর সেই স্থানেই ইসরায়েলি ড্রোন ও স্নাইপার হামলা চালানো হয়।
গত কয়েক সপ্তাহে কেবল এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশে পাঁচ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজা সরকার জানিয়েছে। সর্বশেষ রোববার (১৩ জুলাই) ত্রাণকেন্দ্রের পাশাপাশি নতুন করে পানি বিতরণ কেন্দ্রের কাছেও হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। এতে অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনের এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। যদি গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইসিসি (আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত) কোনো প্রক্রিয়া শুরু করে, তবে তা হবে নজিরবিহীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হলেও যদি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অপরাধ সংঘটিত হয় তবে আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় অ-সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকরাও অভিযুক্ত হতে পারেন। গাজা এমন একটি অঞ্চল, যার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দাবি করে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে।
সূত্র: ডন



