আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

যুক্তরাজ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই

পাঁচ বছর বয়সী ইউসুফ মাহমুদ নাজিরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। একজন চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা জানালেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও শয্যা না থাকায় কর্তৃপক্ষ ইউসুফকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

এএফপি বুধবার এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা খাতের এই সংকটময় ছবি তুলে ধরেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত আরেকটি ঘটনায় জানা যায়, ৬৮ বছর বয়সী মার্টিন ক্লার্ক নিজ বাড়িতে বুকে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে (এনএইচএস) জানানোর ৪৫ মিনিট পর অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

রোগীর অতিরিক্ত চাপের অনুপাতে কর্মীর সংখ্যা ও বেতন বাড়ানোর দাবিতে এনএইচএসের নার্সরা গত বুধবার ধর্মঘট শুরু করেন। একটি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত রোগীকে দেখভালের সময় ওরলা ডুলি নামে এক নার্স এএফপিকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন নার্স হিসেবে কাজ করতে যাই এবং আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাও এখন আর যথেষ্ট নয়। কারণ আমাদের কাজের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় আমরা পাওনাটুকু পাচ্ছি না।’

নার্সরা আরও জানান, এমন অনেক রোগী আছেন, যাদের অস্ত্রোপচারের পর নির্দিষ্ট সময় হাসপাতালে থাকার কথা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেবা দিতে না পারায় তাদের বাড়িতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া বয়স্কদের সেবার জন্য পর্যাপ্ত নার্সও মিলছে না।

১৯৪৮ সালে এনএইচএস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর করোনাকালে কিছুটা সংকটে পড়লেও বর্তমানে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা শোচনীয়তায় দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ ধর্মঘটরত নার্সদের। দুর্ঘটনা ও জরুরি প্রয়োজনে সেবাসংকট এবং চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাওয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এনএইচএস ইংল্যান্ডের তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরে রেকর্ড ৫৪ হাজার ৫৩২ জন মানুষকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার নেয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension