প্রধান খবরবাংলাদেশ

নিয়ন্ত্রণে আসেনি দাবানল, লস অ্যাঞ্জেলেসে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকল বাহিনীকে। নানা প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কর্তৃপক্ষ এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। দাবানলে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শহরের ১০ হাজারের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, আর পুড়ে গেছে ৩৫ হাজার একর জমি। খবর এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি, ডেইলি মেইলের।

অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পূর্ব ও পশ্চিমপ্রান্তে দুটি বড় দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। দাবানল ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ঝড়ো বাতাস। কয়েকদিন ধরে চলা প্রচণ্ড এই বাতাস কমে আসায় শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে একযোগে শুরু হওয়া ছয়টি দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আশপাশের এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১০ হাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ দাবানলে হাজার হাজার মানুষ হঠাৎ নিঃস্ব ও গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ঘন ধোঁয়ার কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কর্তৃপক্ষ বায়ুমানের হ্রাস পাওয়ার কারণে কাউন্টিজুড়ে স্থানীয় জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা করেছে। এর কারণ হিসাবে দাবানল থেকে সৃষ্ট আগুনের ছাই ও ধোঁয়াকে দায়ী করা হয়েছে।

জরুরি স্বাস্থ্যবার্তায় পাতা ওড়ানোর ‘পাওয়ার এয়ার ব্লোয়ার’-এর মতো যন্ত্র ব্যবহারও নিষিদ্ধ করেছে। কারণ, এসব যন্ত্রের ব্যবহার বাতাসে ছাইকে আলোড়িত করে, যা শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তি, বয়স্ক, শিশু এবং অন্য দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে থেকে, জানালা ও দরজা বন্ধ রাখতে, বায়ু পুনঃসঞ্চালন ও ফিল্টারের জন্য এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পোষা প্রাণীকেও বাড়ির ভেতরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের পশ্চিম প্রান্তে প্যালিসেডস এলাকার আগুন এবং পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ইটন এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শুক্রবারের আগপর্যন্ত প্যালিসেডস ও ইটনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার মাত্রা ছিল শূন্য শতাংশ। শত শত অগ্নিনির্বাপণকর্মী আকাশ ও মাটি থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানোর পরও কয়েকদিন ধরে দাবানল ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। অবশেষে প্যালিসেডসের আগুন ৮ শতাংশ এবং ইটনের আগুন ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও এরই মধ্যে দাবানলে এ দুই অঞ্চলের প্রায় ৩৫ হাজার একর পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সাফল্যের খবরও পাওয়া গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সেজন্য লস অ্যাঞ্জেলেসকে প্রস্তুত রাখা এবং জীবন বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা আমাদের প্রথম কাজ।’

আবহাওয়াবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা অ্যাকুওয়েদার শুক্রবার জানিয়েছে, দাবানলে ১৩৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দীর্ঘসময় লাগবে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয়টি দাবানলের আগুন নেভাতে এখনো সংগ্রাম করছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। এসব দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভেনটুরা কাউন্টিতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্যালিসেডসে ২১ হাজার ৫৯৬ একর এলাকা পুড়ে গেছে। সেখানকার আগুন ৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইটনের আগুন ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুড়েছে ১৪ হাজার ১১৭ একর এলাকা। লিডিয়ায় ৩৯৫ একর পুড়েছে, নিয়ন্ত্রণে এসেছে ৯৮ শতাংশ আগুন। হার্স্ট অঞ্চলে ৭৭১ একর পুড়েছে, নিয়ন্ত্রণে এসেছে ৭০ শতাংশ। আর কেনেথ অঞ্চলে ১ হাজার ৫২ একর এলাকা পুড়েছে, ৫০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আর্চার অঞ্চলের ১৯ একর এলাকা পুড়েছে, তবে এখানে আগুন নিয়ন্ত্রেণে আনার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি নতুন করে আগুন ছড়ানো রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ দাবানলকে ‘যুদ্ধের দৃশ্য’ হিসাবে উলে­খ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ দাবানল আমাকে যুদ্ধের দৃশ্যের কথা বেশি মনে করিয়ে দিচ্ছে। যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলা হয়েছে। এটি যেন পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য।’ শুক্রবার ওভাল অফিসে বাইডেনকে দাবানলের সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় লুটপাটের অভিযোগ স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘লুটপাটের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আমরা প্রমাণ পেয়েছি আক্রান্ত এলাকায় অনেকে গিয়ে লুটপাট করছেন।’ এছাড়া দাবানল নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় তিনি ট্রাম্পের সমালোচনাও করেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension