যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের জন্য ৩৯ পাউন্ড দানের অপরাধে রুশ-মার্কিন ব্যালে ড্যান্সারের ১ বছরের কারাবাস

মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন একজন রুশ-মার্কিন নাগরিক। কসেনিয়া কারেলিনা নামের এই নারী লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন ব্যালে ড্যান্সার। ২০২৪ সালের শুরুতে রাশিয়ার ইয়েকাটেরিনবার্গ শহরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন কসেনিয়া। এরপর এক বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী ছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশনের ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) তাঁকে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহকারী একটি সংস্থার জন্য অর্থ সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এরপর গত আগস্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রুশ মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। কসেনিয়া এই দিনেই একটি ইউক্রেনীয় দাতব্য সংস্থায় ৫১ ডলার (৩৯ পাউন্ড) দান করেছিলেন।

তবে প্রশ্নবিদ্ধ এই দাতব্য সংস্থাটি অস্ত্র বা গোলাবারুদের জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা মানবিক সহায়তাকাজে ত্রাণ সহায়তা নিয়েছিল।

এফএসবি তাঁর ফোনে এই লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছিল বলে মনে করা হয়।

এই বন্দিবিনিময়ের সময় যুক্তরাষ্ট্র জার্মান-রুশ দ্বৈত নাগরিক আর্থার পেট্রোভকেও মুক্তি দিয়েছে। ২০২৩ সালে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার হওয়া পেট্রোভের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা প্রস্তুতকারকদের জন্য অবৈধভাবে মাইক্রো ইলেকট্রনিকস রপ্তানির অভিযোগ ছিল। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কসেনিয়া কারেলিনাকে ক্ষমা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে আবুধাবিতে এই বন্দিবিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, কসেনিয়া কারেলিনা একটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন।

মার্কো রুবিও বলেন, রাশিয়া তাঁকে এক বছরের বেশি সময় ধরে অন্যায়ভাবে আটক রেখেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করেছেন এবং তিনি সব আমেরিকান নাগরিকের মুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এই বন্দিবিনিময়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

গত দুই মাসের মধ্যে এটি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় বন্দিবিনিময়। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কারাগারে অর্থ পাচারের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত রুশ নাগরিক আলেকজান্ডার ভিনিকের বিনিময়ে আমেরিকান স্কুলশিক্ষক মার্ক ফোগেল মুক্তি পেয়েছিলেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে মস্কো ও ওয়াশিংটনের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন হচ্ছে। আজ ইস্তাম্বুলে মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তারা আরও বৈঠকে বসছেন, যেখানে ইউক্রেন আক্রমণের পর স্থগিত হওয়া দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension