
‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান’: ট্রাম্পের বিদেশি সহায়তা কমানোর বিল জোরপূর্বক পাস করলো মার্কিন সিনেট রিপাবলিকানরা

শাহ্ জে. চৌধুরী
বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিদেশি সহায়তা কমানোর প্রস্তাব অবশেষে জোরপূর্বক পাস করলো মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানরা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘ক্লব্যাক প্যাকেজ’টিকে রিপাবলিকান নেতারা আখ্যা দিয়েছেন ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান’ হিসেবে।
বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট বিলটি পাস করে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিদেশি সহায়তা ও বহিঃবাণিজ্য কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হবে। এতে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবিক ত্রাণ ও কিছু বহিঃরাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ তহবিল ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্যোগকে মার্কিন জনগণের অর্থ ‘অযথা বিদেশে নষ্ট’ হওয়া বন্ধের একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, ‘আমাদের করদাতাদের অর্থ দেশে রাখা দরকার এবং নিজেদের সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দিতে হবে।’
তবে ডেমোক্র্যাট শিবির এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশগুলোতে মানবিক সংকট আরও প্রকট হবে।
নির্বাচনী বছরের এই বিতর্কিত ভোটাভুটিকে বিশ্লেষকরা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। বিদেশি সহায়তার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় অর্থ ব্যয় করার বার্তাটি ট্রাম্পপন্থী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার সাংবাদিকদের বলেন, “এটি শুধু একটি বাজেট কাটা নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পলায়ন। যে দেশের মানুষরা দুর্যোগ আর যুদ্ধের মুখোমুখি, তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
এই বিল এখন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ যাবে। সেখানেও ডেমোক্র্যাটরা কড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলার আভাস দিয়েছেন। ফলে আইনটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকবে।



