
ওয়াশিংটন সফরে জোহারান মামদানি, নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচন ঘিরে জনমত সমীক্ষায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউইয়র্ক সিটি— নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলি সদস্য ও প্রগতিশীল রাজনীতিক জোহারান মামদানি এই সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন। একই সময়ে প্রকাশিত এক নতুন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত।
কুইন্সের প্রতিনিধি মামদানি ওয়াশিংটন সফরে কংগ্রেসের সদস্য ও নীতি-প্রণেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকগুলোর মূল বিষয় ছিল আবাসন ন্যায়বিচার, অভিবাসীদের অধিকার ও জাতীয় পর্যায়ে প্রগতিশীল এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া। কংগ্রেসের প্রগতিশীল সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ও জামাল বোম্যানের সঙ্গে তার তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সমর্থকরা তার ক্রমবর্ধমান জাতীয় উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, “আমাদের স্থানীয় লড়াইগুলোকে জাতীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের জন্য মজবুত বন্ধু দরকার — সিটি হল থেকে ক্যাপিটল হিল পর্যন্ত।”
এদিকে, নিউইয়র্ক সিটিতে বুধবার প্রকাশিত নতুন এক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মেয়র এরিক অ্যাডামস তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে মাত্র ৪ শতাংশ এগিয়ে আছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রগতিশীল প্রার্থীরা দ্রুত সমর্থন বাড়াচ্ছেন। ভোটারদের কাছে আবাসন সমস্যা, আইনশৃঙ্খলা ও জীবনযাত্রার ব্যয় প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সময়ের মধ্যেই মামদানির ওয়াশিংটন সফর প্রমাণ করছে যে নিউইয়র্কের প্রগতিশীল আন্দোলন এখনও দৃঢ় এবং তার প্রভাব শহরের সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মামদানির সফর দুই দিকেই বার্তা দিচ্ছে — একদিকে নিজের উপস্থিতি জোরদার করা, আরেকদিকে প্রগতিশীল এজেন্ডাকে জাতীয় পর্যায়ে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা।”
ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি আর বেশি দিন বাকি নেই। এমন সময়ে সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ভোটের লড়াই আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে সিটি হল-এ প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যাবে — যেটি মামদানির এই দ্বৈত ভূমিকার সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।



