
ভোট জালিয়াতির অভিযোগে ২৮ গ্রিন কার্ডধারী, তালিকায় ২ ভারতীয়
ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল অভিযান • ১১ জন গ্রেপ্তার • ২০২৪ সালের নির্বাচনে বেআইনি ভোট ও নিবন্ধনের অভিযোগ
শাহ্ জে. চৌধুরী : যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের নির্বাচনে বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও ভোট দেওয়ার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জন গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে ফেডারেল ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। মার্কিন বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার ঘোষিত এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন প্রোটেক্ট দ্য ভোট’। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কিংবা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে দুই ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দুই ভারতীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আমানদীপ কৌরের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেস এলাকার বাসিন্দা।
অন্যদিকে, স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা কমলেশ শাহের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রিন কার্ডধারীদের ভোটাধিকার নেই
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীরা বসবাস ও কাজের অনুমতি পেলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। এ অধিকার মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত। ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা বেআইনিভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি ভোটদান, ভোটার নিবন্ধনের সময় মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আবেদনে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট অভিযোগ ও আদালতের রায়ের ওপর।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার নিবন্ধন, নাগরিকত্ব যাচাই ও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও, এ ধরনের ঘটনার ব্যাপ্তি এবং নির্বাচনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিযোগ আনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনত নির্দোষ বলে বিবেচনা করতে হবে।



