প্রধান খবরবাংলাদেশ

রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও উদ্ঘাটিত হয় নি

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু রহস্য এখনও অন্ধকারে। তবে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত, মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তার। তাকে সেখান থেকে কেউ ফেলে দিয়েছে, নাকি নিজে পড়ে মারা গেছেন, সে বিষয়ে কোনও কূলকিনারা করতে পারেন নি তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা।
 
মামলার তদারকি কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার শামসুল আরেফিন বলেছেন, ‘আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ভবন থেকে পড়ে রুম্পার মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিছু আলামত পাওয়া গেছে ওই ভবন থেকে। তবে তাকে সেখান থেকে কেউ ফেলে দিয়েছে, নাকি সে নিজে পড়ে আত্মহত্যা করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে প্রাথমিক একটি রিপোর্ট হাতে এসেছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
 
রুম্পার বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিন সমকালকে জানান, তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার পর রুম্পার কয়েকজন বন্ধুকে তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরবর্তীকালে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ থেকে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট ছাড়া অপর রিপোর্টগুলো এখনও পুলিশের হাতে আসে নি।
 
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, মেয়ে কীভাবে এবং কেন মারা গেল, বাবা হিসেবে এটা জানা প্রয়োজন আমার। তাকে কেউ ঠেলা দিয়ে ফেলে মারল, নাকি নিজে পড়ে মারা গেল, তা অজানা এখনও।’
 
রুম্পাদের বাসা রাজধানীর শান্তিবাগে। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি শান্তিবাগ এলাকায় দুটি প্রাইভেট পড়াতেন। ৪ ডিসেম্বর প্রাইভেট পড়ানো শেষে সন্ধ্যায় বাসার সামনে যান। ফোনে তার মাকে বলেন, চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সুমনের হাতে এক জোড়া স্যান্ডেল পাঠাতে। সুমন স্যান্ডেল নিয়ে এলে তা পরিবর্তন করেন তিনি। এর পর নিজের ব্যবহূত মোবাইল ফোন, আঙটি, হাতঘড়ি ও ব্যাগ বাসায় পাঠিয়ে বেরিয়ে পড়েন।
 
পরে রাত ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর ভবনের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ১১তলা ভবন। লাশটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়। থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। পরদিন রাতে লাশের পরিচয় পাওয়া যায়। মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয় তখনই।
 
ডিবি সন্দেহভাজন হিসেবে রুম্পার সাবেক প্রেমিক আব্দুর রহমান সৈকতকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়। কিন্তু তার কাছ থেকে রুম্পার মৃত্যুর বিষয়ে কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারে নি। ঘটনাস্থলের আশপাশের এবং রুম্পাদের শান্তিবাগের বাসার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনার পরও তেমন কোনও তথ্য পাওয়া যায় নি।
 
সৈকতের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার কাছিহাটা মুন্সীবাড়ি। বর্তমান বাসা রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ায়। তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকত একসময় সিদ্ধেশ্বরীতে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করতেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে রুম্পা ও সৈকতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। প্রায় সাত মাস আগে প্রেমের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। কিন্তু রুম্পা তার সঙ্গে সম্পর্ক চলমান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে আর্থিক সংকটের কারণে সৈকত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হন। ঘটনার দিন দুপুরে সৈকত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বান্ধবীর জন্মদিনের কেক কাটতে আসেন। অনুষ্ঠানের পর বিকেলে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় রুম্পার সঙ্গে সৈকতের দেখা হয়।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension