আন্তর্জাতিকপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র
সোলাইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, নিন্দা ও সমালোচনা
ইরানের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটির প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবারই কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক নম্বর টার্গেট ছিলেন ইরানি এই জেনারেল। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও বারাক ওবামা পর্যন্ত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেও পরিণতির কথা ভেবে পিছু হটেছিলেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হওয়ার পরও পূর্বসূরিরা যে ঝুঁকি নিতে চান নি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেন তা নিলেন?
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, কাসেম সোলাইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক ও সেনাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। ফলে তাকে হত্যা করে ওই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলো।
তবে এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন যখন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে অভিশংসন অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস। এছাড়া এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দেখতে শুরু করেছেন।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আগামি নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো. বাইডেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘একটা বারুদের বাক্সে ডিনামাইট ছুঁড়ে দিয়েছেন’। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলাম’।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জুলিয়ান বার্গার লিখেছেন, ‘নভেম্বরে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোলাইমানিকে হত্যার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’। তিনি মনে করছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার ঘটনা যেমন বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ট্রাম্পও হয়তো তেমনই কিছু করতে চেয়েছেন।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আমেরিকানরা এখন কেন এই ‘ট্রিগার’ টিপলো, তার কারণ হয়তো প্রেডিসন্ট ট্রাম্প মনে করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকির মাত্রা তার চেয়ে সুবিধাই বেশি। বোয়েন বলেন, ‘ট্রাম্প হয়তো মনে করেছেন, অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল ও একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশের ভেতরে যে প্রচণ্ড অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হলেও ইরান বড় কোনও হুমকি তৈরি করতে পারবে না’।
ভারতভিত্তিক সিরীয় সাংবাদিক ওয়ায়েইল আওয়াদ মনে করেন, ইরানের শীর্ষ জেনারেলকে হত্যা করা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নেবে। যে বিশৃঙ্খলা ট্রাম্প তৈরি করেছেন সেজন্য তিনি সত্যিকার অর্থে প্রস্তুত কিনা তা আগামীতে দেখা যাবে।
ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তালমিজ আহমেদ বলেন, ২০২০ সালে নির্বাচনের পূর্বে নিজের অবস্থান সংহত করতেই সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। সিনেটে অভিশংসন বিচারের পূর্বে নিজেকে দৃঢ় নেতা প্রমাণের জন্যও এমনটি করে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সূত্র: বিবিসি বাংলা, হিন্দুস্তান টাইমস।



