আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

উইঘুর নির্যাতন, চীনের বিরুদ্ধে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

জিনজিয়ান প্রদেশে উইঘুর মুসলমান এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকায় একটি চীনা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির দু’জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষাণা করা হয়।

নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আরো বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গেল সপ্তাহে হিউস্টনে চীনা কনুস্যলেট বন্ধ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবাদে চীনের চেংডুতে থাকা মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দেয় শি জিনপিং প্রশাসন।

শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চীনের আর্থিক এবং প্যারামিলিটারি সংগঠন জিনজিয়ান প্রোডাকশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কর্পস-এক্সপিসিসিকে কালো তালিকাভুক্ত করে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এক্সপিসিসি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুন জিনলোং এবং উপ-সাধারণ সম্পাদক এবং এক্সপিসিসি’র কমান্ডার পেং জিয়ারুরির বিরুদ্ধে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, জিনজিয়ানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার দায়ে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তারা উইঘুর মুসলমানসহ সংখ্যালঘুদের গণহারে আটক এবং তাদের ওপর তীব্র শারীরিক নির্যাতন চালানোয় সম্পৃক্ত।’

‘এক্সপিসিসি একটি প্যারামিলিটারি সংগঠন। যারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অধীনে পরিচালিত। তারা চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জিনজিয়ানে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে।’

যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের সঙ্গে মার্কিনদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক্সপিসিসি’র সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকারে লেনদেনের সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট মার্কিনরা।

তিন সপ্তাহ আগে চীনের শক্তিশালী পলিটব্যুরোর সদ্য জিনজিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক চেন কুয়ানগুয়োর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। চেন একমাত্র চীনা শীর্ষ ব্যক্তি যিনি ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

দি জিনজিয়ান প্রডাকাশন অ্যান্ড কনসট্রাকশন কর্পস একটি আধা সামরিক গ্রুপ। ১৯৫৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। পরে চীনের পূর্বাঞ্চলের সাধারণ মানুষও এতে যোগ দেয়। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। যা জিনজিয়ানের জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। উইঘুর মুসলিমদের বসতি জিনজিয়ানে প্রতিষ্ঠিত এক্সপিসিসি-এর অধিকাংশ সদস্যদের হান সম্প্রদায়ের।

এক্সপিসিসি-কে রাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জিনজিয়ানে তাদের বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার ব্যবস্থাও রয়েছে।

উইঘুরদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, উইঘুর মুসলমানদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের কর্মস্থানের লক্ষ্যে কাজ করছে চীনা সরকার।❑

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension