যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিপরীত চিত্র, বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলে থাকেন, ইউক্রেন হামলা করায় বিশ্বের অন্যন্য দেশগুলো রাশিয়াকে প্রত্যাখান করেছে। তারা এখন একা হয়ে গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির পুরো বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে পুরো বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

এমনকি মিশর এবং উগান্ডার মতো দেশগুলোর প্রেসিডেন্টও দেখা করেছেন লাভরভের সঙ্গে। এ দুটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রপন্থি হিসেবেই পরিচিত।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বর্তমানে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। সেসব দেশের নেতাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, ছবি তুলছেন, হাসছেন, প্রায় সবই করছেন।

যে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে গেছে বলে থাকে, সেই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেই কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। মার্কিন মন্ত্রী রাশিয়ায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন বন্দি এবং ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে কথা বলার কথা জানিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে রাশিয়ার নেতাদের হাত মেলানো এবং ফোন কল ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাশিয়াকে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবে একা করে দেওয়ার যে কৌশল যুক্তরাষ্ট্র চিন্তা করেছিল সেটি ব্যর্থ হয়েছে।

রাশিয়াকে একা করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ইউক্রেন ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে লাভ নেই। কারণ তারা ‘কূটনৈতিক তৎপরতায় সিরিয়াস না, রাশিয়াকে বিশ্বাস করা যায় না’

কিন্তু সেই রাশিয়ার সঙ্গেই এখন আলোচনা করার আগ্রহ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফলে এখন অন্য দেশগুলো বলতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রই যদি রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে পারে তাহলে আমরা কেন রাশিয়ার সঙ্গে আরও বৃহৎ আকারে আলোচনা করতে পারব না?

ইতিমধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো রাশিয়াকে একা করে দেওয়ার ডাক প্রত্যাখান করেছে। কারণ এসব অঞ্চলেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কয়েকদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের মাঝ থেকে বেরিয়ে যান সের্গেই লাভরভ। কারণ ওই সময় রাশিয়ার সমালোচনা করছিলেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টিকে নিজেদের সফলতা হিসেবে জাহির করেছিল।

কিন্তু এ ঘটনার পরও রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বাদ দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আগামী সপ্তাহে আসিয়ান ফোরাম, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এবং নভেম্বরে এশিয়ায় ট্রিয়ো অব লিডারস সামিটেও রাশিয়া যোগ দিতে যাচ্ছে।

চীন, ভারতসহ অসংখ্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে রাশিয়া। এ দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানি বা অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে ফিলিপাইন যেটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে, সেই ফিলিপাইন রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা থেকে ১৬টি সেনা পরিবহণ হেলিকপ্টার কিনছে।

ডেইলি সাবাহ

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension