
বঙ্গবন্ধু চা-শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন, আমি ঘর দেব: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু চা-শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন, আমি ঘর তৈরি করে দেব, ভূমি দেব, যাতে এ মাটির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক থাকে।’
আজ শনিবার বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, বাংলাদেশের সব পেশার মানুষের কেউ যেন ভূমিহীন না থাকে।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘জাতির পিতা চা-শ্রমিকদের ভোটাধিকার দিয়েছেন। এরপরও তারা ভূমিহীন থাকবে, এটা হতে পারে না। অন্যসব নাগরিকদের সঙ্গে তাদেরও ভূমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। আপনাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা হবে। এ মাটির সঙ্গে যাতে আপনাদের অধিকার থাকে, সে ব্যবস্থা আমি করে দেব ইনশাআল্লাহ।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের যারা কষ্ট করেন, তাদের দিকে আমাদের তাকানো দরকার। আমি এটুকু বলতে পারি, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জন্য আমার বাবা রাজনীতি করেছেন। কাজেই তারা কষ্টে থাকবে, এটা হতে পারে না।’
মতবিনিময় সভায় চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে রীতা পানিকা নামের এক শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমরা সবসময় আপনার কথা ভেবেছি এবং ভেবে যাব। আমরা জানি, আপনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এ স্বাধীনতা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। আমরা চাই, আপনার বাবার মতো আপনিও আমাদের কাছ থেকে সরে যাবেন না।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রীতা পানিকা আরও বলেন, ‘আমরা চাই আপনি আমাদের কাছে চিরজীবী থাকবেন। আমরা চা শ্রমিকরা যে কষ্টে আছি এবং অবহেলিত, সেটা আপনি দেখেছেন। এজন্য আপনাকে কোটি কোটি ধন্যবাদ। আপনাকে আমাদের কমলগঞ্জ উপজেলায় চায়ের দাওয়াত দিচ্ছি। আপনাকে কখনও চোখে দেখিনি। এখন যে আপনাকে দেখতে পাচ্ছি, এজন্য অনেক ধন্যবাদ।’ এ সময় কোনো ভুল-ক্রটি হয়ে থাকলে ক্ষমা চান তিনি।
রীতা পানিকার বক্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘আপনারা ক্ষমা চাইবেন কেন। আপনারা যেটা করেছেন সেটা বাঁচার তাগিদে করেছেন। আমি সেটা বুঝি। এজন্য আগে আমি মালিকদের সঙ্গে বসেছি, এখন আপনাদের সঙ্গে বসলাম।’



