
আবারও নির্বাচিত হলে ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করব: মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে দেশকে তিনি বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত করবেন। আজ বুধবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সংস্কারকৃত প্রগতি ময়দানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই প্রতিশ্রুতি দেন মোদি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মোদি বলেন, ‘পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই ভারতের অবকাঠামো বদলে যাচ্ছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু ভারতে, সবচেয়ে বেশি উঁচুতে সবচেয়ে দীর্ঘ টানেল ভারতে, দীর্ঘতম মূর্তি এবং সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম—এর সবকিছুই ভারতে অবস্থিত।’ তিনি বলেন, ‘ভারতের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নও তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।’
মোদি বলেন, ‘আমাদের প্রথম মেয়াদে ভারত অর্থনীতির দিক থেকে শীর্ষ ১০-এর শেষ স্থানে ছিল। আমাদের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অতীত রেকর্ডের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রমাণ করে দেব যে তৃতীয় মেয়াদে আমরা বিশ্বের অর্থনীতির মধ্যে শীর্ষ তিনে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার তৃতীয় মেয়াদে ভারত শীর্ষ তিন অর্থনীতির একটি হবে—এটি মোদির গ্যারান্টি।’
এদিকে, ভারতীয় পার্লামেন্টে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস ও বিরোধীরা। মণিপুরের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী জোট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মণিপুরে দুই নারীকে ধর্ষণের পর নগ্ন করে ঘোরানোর পর লোকসভায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক হট্টগোল তৈরি হয়। একপর্যায়ে তৈরি হয় অচলাবস্থা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের কাছে এক চিঠিতে অচলাবস্থা কাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অমিত শাহের চিঠির পরপরই বিরোধীদের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি সামনে এল। ভারতের প্রাচীন এই দলটি ছাড়াও ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) নামে অপর একটি দলও অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। ভারত রাষ্ট্র সমিতি বিরোধীদের জোট ইন্ডিয়ার অংশ নয়।
ভারতের সংবিধান অনুসারে, অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ৫০ জন সদস্যের সমর্থন থাকলেই কেবল সরকারে বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব লোকসভায় ভোটাভুটিতে দেওয়া হয়। এখানে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপনকারী দল কংগ্রেসের সদস্য ৫২ জন এবং বিআরএসের সদস্য সংখ্যা ৯। ফলে স্বাভাবিকভাবে বলা যায়, এই প্রস্তাব লোকসভায় গৃহীত হবে।
তবে ৫৪৩ আসনবিশিষ্ট লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। তাদের দখলে রয়েছে ৩৩১টি আসন। বিপরীতে সদ্য গঠিত বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার দখলে রয়েছে মাত্র ১৪৪টি আসন।
যদিও বিরোধীদের কাছে এটি স্পষ্ট যে তারা কোনোভাবেই অনাস্থা প্রস্তাব পাস করাতে পারবে না, তবে তাদের দাবি এই প্রস্তাব তাদের মণিপুর ইস্যুতে বিতর্ক করতে প্রয়োজনীয় অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাদের দাবি, এই প্রস্তাব পার্লামেন্টে মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বক্তব্য রাখতে বাধ্য করতে সহায়তা করবে।



