আইএস সেলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল আটক বাংলাদেশীরা: মালয়েশিয়া পুলিশের আইজিপি
আইজিপি জানান, এই গোষ্ঠীর নাম ‘গেরাকান মিলিট্যান রেডিক্যাল বাংলাদেশ’ বা জিএমআরবি। এর সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের মতবাদ প্রচার এবং নতুন সদস্য নিয়োগ করছিল।
মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি আটক হওয়া বাংলাদেশীদের একটি গোষ্ঠী সিরিয়া ও বাংলাদেশের ইসলামিক স্টেট (আইএস) সেলগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশের আইজিপি দাতুক সেরি মোহদ খালিদ ইসমাইল। খবর দ্য স্টার।
শুক্রবার (৪ জুলাই) বুকিত আমানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের (ই-এইট) গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তে জানা গেছে, আইএসের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তারা মোট কত টাকা সংগ্রহ করেছে তা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। আমরা মনে করি, সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা এবং দান থেকে তারা এ অর্থ সংগ্রহ করেছে।
আইজিপি জানান, এই গোষ্ঠীর নাম ‘গেরাকান মিলিট্যান রেডিক্যাল বাংলাদেশ’ বা জিএমআরবি। এর সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তাদের মতবাদ প্রচার এবং নতুন সদস্য নিয়োগ করছিল।
তিনি বলেন, আমাদের ধারণা, তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রুপের প্রত্যেক সদস্যকে বছরে ৫০০ রিংগিত চাঁদা দিতে হয়। তবে অন্য দানের পরিমাণ সদস্যদের ওপর নির্ভর করে।
তাদের কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বা প্রতিবেশী দেশগুলোর আইএস সেলের সঙ্গে কোনো সংযোগ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে আইজিপি জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তিনি বলেন, আমরা অন্য দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের সঙ্গে কাজ করছি যাতে তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা যায়।
আইজিপি আরো জানান, জিএমআরবি মূলত মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্য থেকে সদস্য নিয়োগ করছিল। প্রতিটি সদস্যকে দলে যুক্ত হওয়ার আগে ‘বাইআ’হ’ (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করতে হয়। তবে এর আগে সদস্যদের খুব নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হত।
আইজিপি জানান, মালয়েশিয়াকে যাতে বিদেশী জঙ্গিদের লজিস্টিক ও ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার না করা যায়, সে জন্য এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে ই-এইট। তাদের তিন ধাপে চালানো একটি অভিযানে এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করা হয়েছে। অভিযানটি চলেছে গত ২৮ এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। এতে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৩৬ জন বাংলাদেশীকে জোহর এবং সেলাঙ্গর থেকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে তাদের নেতাও রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, এই ৩৬ জনের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, ১৫ জনকে ইমিগ্রেশন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সোসমা অনুযায়ী তদন্ত চলছে।



