আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্র

আর্জেন্টিনার ‘ত্রাণকর্তা’ ট্রাম্প

চলতি মেয়াদে বিশ্বজুড়ে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এমন কি, তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্যও মনোনীত করে কয়েকটি দেশ।

তবে নোবেল না পেলেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প তার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন। ঘনিষ্ঠ মিত্রদের যথাসাধ্য সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।

এমনই এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি আর্জেন্টিনার ‘ত্রাণকর্তার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বেশ কিছুদিন ধরেই মেসি-ম্যারাডোনার দেশের অর্থনীতির অবস্থা তথৈবচ। আর সে অবস্থান থেকে মিত্র দেশটিকে বের করে আনার জন্য মার্কিন সরকার আর্জেন্টিনার মুদ্রা পেসো কিনেছে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে বিপদমুক্ত করতে ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

বেসেন্ট আরও জানান, আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খোলা বাজার থেকে আর্জেন্টিনার মুদ্রা পেসো কিনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে কি পরিমাণ পেসো কেনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি বেসেন্ট।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন। তবে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

বেসেন্ট বলেন, ‘(আর্জেন্টিনার) বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে যা যা যা করা প্রয়োজনীয়, তা যতই ব্যতিক্রমধর্মী হোক না কেন—মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সে জন্য প্রস্তুত আছে।’

২০ বিলিয়ন ডলারের এই ‘জীবন বাঁচানো’ ঋণ প্যাকেজকে বেসেন্ট সরাসরি ‘মুদ্রা বিনিময়’ বলে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেজারি বিভাগ থেকে পেসোর বিনিময়ে সরাসরি মার্কিন ডলার কিনতে পারবে। এর ঊর্ধ্ব সীমা ধরা হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিদারুণ পরাজয়ের মুখে পড়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। এমন কি, এ মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য অন্তর্বর্তী নির্বাচন শেষে পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না, সেটা নিয়েও বিশ্লেষকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

যার ফলে হুহু করে বাড়ছে ডলারের বিপরীতে পেসোর মূল্য।

ট্রাম্প বরাবরই মিলেই’র প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছেন এবং তাকে আবারও নির্বাচনে জেতানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে মিলেই’র অর্থনীতিকে ‘বাঁচানোর’ জন্য ট্রাম্পের এই তোড়জোড়কে ভালো চোখে দেখছেন না সমালোচকরা।

তাদের মতে, এই উদ্যোগ ট্রাম্পের তথাকথিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিজ স্বার্থ রক্ষা) বুলির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তবে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট প্রশাসনের এই উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এ মুহূর্তে ভয়াবহ তারল্য সংকটে ভুগছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আর্জেন্টিনার আর্থিক কৌশলের পক্ষেই আছে। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই সম্ভব দ্রুততম সময়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension