
তিস্তার পেছনে লেগে আছি: সুষমা স্বরাজ
রূপসী বাংলা ডেস্ক:তিস্তার সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারত সফরে গিয়ে মোদির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। গত বছরের এপ্রিলে নরেন্দ্র মোদির দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদেই তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা। তবে হাতে এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে। তাই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন।
তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়া ব্যর্থতা বলা যাবে না। সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হতে এখনো এক বছর বাকি। আমাদের বিফল ঘোষণা না করে বরং একটু ধৈর্য ধরুন, আমরা কিন্তু এটার পেছনে লেগে আছি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সুষমা স্বরাজ। দিল্লির জনপথে জওহরলাল নেহরু ভবনে সোমবার এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
সুষমা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ, এই দুই সরকারের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তিস্তার পানি যেটুকু যাবে, সেটা ওই রাজ্য থেকেই যাবে। কাজেই তাদের মতামত ও অনুমতি জরুরি। তিস্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। তিস্তার বিকল্প হিসেবে অন্য একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা। সেই প্রস্তাবে রয়েছে অন্য তিন নদী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিস্তার বদলে ওই তিন নদীর পানি বাংলাদেশ নিক। তাতে তাদের পানির সমস্যা মিটবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকার মিলে সেই প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করছে, যদিও আমরা সেই রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি।
এ কথা বলার পরেই সুষমা বলেন, ভারত সরকারের বয়স মাত্র চার বছর পূর্ণ হলো। মেয়াদ শেষ হতে এখনো এক বছর বাকি। তাই তিস্তা চুক্তি না হওয়াকে এখনই সরকারের ব্যর্থতা বলা যাবে না।
রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমারের প্রতি ভারত সহানুভূতিশীল—এমন প্রশ্নে সুষমা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভুল-বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।
দেশের যুগ্ম ওয়ার্কিং গ্রুপের দুটি বৈঠক হয়েছে। ১ হাজার ২২২ জনকে চিহ্নিত করে সেই তালিকা বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে। দুই দেশ আন্তরিকতার সঙ্গে এগোলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।



