
প্রচণ্ড গণচাপের মুখে মুক্তি পেলেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিবাদকারী মাহমুদ খলিল
নিউইয়র্ক | জুন ২১, ২০২৫: মাহমুদ খলিল, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনপন্থী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ, আইসিই (U.S. Immigration and Customs Enforcement)-এর আটক থেকে মুক্তি পেয়েছেন। কয়েক সপ্তাহের তীব্র জনমত, আইনি লড়াই এবং জাতীয় পর্যায়ের নজরদারির পর এই মুক্তি ঘটে।
মে মাসের শুরুতে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা করে এমন কোম্পানিগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এক ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর খলিলকে আটক করা হয়। তার গ্রেপ্তার নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে এবং এটি অনেকেই “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিশোধমূলক” বলে মন্তব্য করেন।
ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদ ও সংহতি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিদিন প্রতিবাদ, মোমবাতি প্রজ্বালন ও স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Students for Justice in Palestine (SJP)-এর নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা খলিলের মুক্তির দাবিতে একজোট হন।
“এটা কেবল মাহমুদের ব্যাপার নয়,” বলেন সহপাঠী ও সংগঠক লায়লা হাসান।
“এটা এক বৃহত্তর ইস্যু — মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিশেষ করে যখন তা ন্যায়ের পক্ষে যায়, তখন তা দমন করার এই প্রবণতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।”
একটি অনলাইন পিটিশনে ৬০,০০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেন। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানি এবং কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ-সহ অনেক রাজনীতিবিদ মাহমুদের আটকের প্রতিবাদ জানান এবং আইসিই-এর স্বচ্ছতা দাবি করেন।
আইনি লড়াইয়ে জয়
মাহমুদের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন যে, তার ছাত্র ভিসার বৈধতা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মূলত তাকে রাজনৈতিকভাবে দমন করার জন্য।
জুন ১৯ তারিখে একজন অভিবাসন বিচারক তার মুক্তির আদেশ দেন এবং বলেন, তার আটক দীর্ঘায়িত করার কোনও যথেষ্ট কারণ নেই।
মুক্তির পর এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মাহমুদ বলেন,
“আমি কৃতজ্ঞ সেই সকল মানুষের প্রতি, যারা আমার পাশে ছিলেন। এটা শুধু আমার মুক্তি নয়, এটি ছাত্রদের কণ্ঠের স্বাধীনতার পক্ষে একটি বিজয়।”
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
মাহমুদের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে প্রবাসী ছাত্রদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের উপর চলমান দমন-পীড়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ দমন করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এদিকে, মাহমুদ আবার ফিরে গেছেন তার পড়াশোনায় — কিন্তু এবার আরও দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে।
“এই লড়াই এখানেই শেষ নয়,” বলেন তিনি।
“এখন তো কেবল শুরু।”



