প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

বিএনপির নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ছে!

রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: উপজেলা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও দলের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সারাদেশে বিএনপির তৃণমূলের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। যারা দলের এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তারা সবাই যার যার উপজেলা কিংবা জেলার একজন জনপ্রিয় নেতা। আর মূলত তারাই উপজেলা এবং জেলা বিএনপিকে পরিচালনা করেন বা নেতৃত্ব দেন। অথচ উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অপরাধে তাদেরকেই বহিষ্কার করছে বিএনপি। এর ফলে সারাদেশে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিএনপি নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেয়ে বিএনপির যেসকল নেতারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করছে বিএনপি। এটা একদিকে যেমন সঠিক সিদ্ধান্ত, একইভাবে এই সিদ্ধান্তের কারণে দলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন তারা তাদের উপজেলায় একজন জনপ্রিয় নেতা। আর তাদের নির্দেশে শতাধিক কর্মী কাজ করে। সুতরাং তাদেরকে বহিষ্কার করা হলে এই কর্মীগুলো দল নাও থাকতে পারে। সুতরাং এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপি বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রূপসী বাংলাকে বলেন, কোন ক্ষতি হবে না। এগুলো আমরা আগে-পিছে সবকিছু চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই নির্বাচনে যাওয়ার মতো কোন কারণ নাই। কারণ যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে না, সেই নির্বাচনে আমরা যাবো না। এরপরও যারা নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচনে যাচ্ছেন তাদেরকে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বহিষ্কৃত করা হচ্ছে। আর এর ফলে আমাদের দলের শক্তি কিংবা সাংগঠনিক কোন ক্ষতি হবে না।

একই বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  রূপসী বাংলাকে বলেন, যারা সংগঠনের সিদ্ধান্ত পালন করতে ব্যর্থ হবেন, তারা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো- তারা কখনো সংগঠনের জন্য লাভজনক না। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে বহিষ্কার করলে এমন হওয়ার কারণ নেই যে, আমাদের আর সংগঠনের কোন নেতৃবৃন্দ নাই। তাই যেসব জায়গা শূন্য হবে, সেসকল জায়গায় যারা যোগ্য ও উপযুক্ত তারা সেসব জায়গা দখল করবে। আর যারা বহিষ্কৃত হবে, তারা যদি তাদের ভুল বুঝতে পারে তাহলে এক সময় ফিরে আসবে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কোন নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্ত বরখেলাপ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে দলের এই নির্দেশ উপেক্ষা করে অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। আবার অনেক নেতা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।

কেন্দ্রীয় থেকে এই নির্দেশনার পরে প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১ শ’ ১২ জনকে এবং দ্বিতীয় দফায় গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১৯ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে সংখ্যা আরো বেশী হবে।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগমকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: মৌলভীবাজারে রেহানা বেগম হাসনা, নেত্রকোনার মির্জা পারভেজ, মনোয়ারা বেগম, মৌলভীবাজারের লিটন আহমেদ, শ্রীমঙ্গলের হেলেনা আক্তার চৌধুরী, আব্দুল মুয়ীন ফারুক, পারভীন আক্তার লিলি, চট্টগ্রামের এস এম ছলিম উদ্দিন চৌধুরী প্রকাশ খোকন চৌধুরী, আফরোজা বেগম জোলি, শাহ নেওয়াজ বেগম, শাহিদা আকতার শেফু।

এছাড়া হবিগঞ্জের এস এম শাহজাহান, মনজুর উদ্দিন আহমদ শাহীন, চুনারুঘাটের এস লিয়াকত হাসান, মাহবুবুর রহমান আওয়াল, মাধবপুরের আব্দুল আজিজ, তানিয়া খানম, সুফিয়া আক্তার হেলেন, নাদিরা খানম, তাউস আহমদ, সিলেটের মাজহারুল ইসলাম ডালিম, জিল্লুর রহমান সোয়েব, শামছুল আলম, মাওলানা রশীদ আহমদ, সোহেল আহমদ চৌধুরী, আব্দুর রহমান খালেদ, আশরাফ উদ্দিন রুবেল, নাজমা বেগম, স্বপ্না শাহীন, আবদাল মিয়া, খালেদুর রশীদ ঝলক, সুন্দর আলী, ইয়াহইয়া বেগম, ফজলে আশরাফ মান্না, লুৎফুল হক খোকন, শাহ আলম স্বপন, জয়নাল আবেদীন, খোদেজা বেগম কলি, জৈন্তাপুরের আব্দুল হক, মিসবাহ উদ্দিন আহমদ, আহমদ নূর উদ্দিন, জুবেল আহমদ, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, লাল মিয়া, আবিদুর রহমান, ওয়াহিদুজ্জামান সুফী, মনির আলী নানু মিয়া, হারুন আহমদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম মুরাদ, সাহেদ আহমদ, ফেরদৌসি ইকবাল, গোলাম রব্বানী, সেবু আক্তার মনি। বগুড়ার মাছুদুর রহমান (হিরু মণ্ডল), টিপু সুলতান, রাফি পান্না, গোলাপি বেগম, জিয়াউল হক লিপন, রঞ্জনা খান, নয়নতারা, মোছা. বিউটি বেগম, আলেকজান্ডার, এ কে আজাদ, কাহালুর শাহাবুদ্দিন, মমতাজ আরজু কবিতা, আখতার আলম সেলিম, আলিমুদ্দিন হারুন, মোছা. নাজমা আক্তার, মাহিদুল ইসলাম গফুর, আবুল বাশার, জাহেরুল ইসলাম, সুলতান আহম্মেদ, মোছা. জুলেখা বেগম, মোছা. কোহিনুর বেগম, রহিমা খাতুন মেরি, ডা. মেহেরুল আলম মিশু, আনোয়ার এহসানুল বাশার জুয়েল, সুরাইয়া জেরীন রনি, তাহমিনা আকতার রুমা, শ্যামল সরকার, নওগাঁর নিয়ামতপুরের সদরুল আমিন চৌধুরী, মোছা. মনোয়ারা বেগম, মান্দার আহসান হাবীব, জয়নুল আবেদীন, আশরাফুল ইসলাম, মোছা. শাহিনা, রাঙামাটির নূর নাহার বেগম, নুরুজ্জামান হাওলাদার, রনো চাকমা প্রমুখ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension