
অস্ত্রভাণ্ডার প্রস্তুত, ইরানকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ সক্ষম’। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে পিট হেগসেথ এসব মন্তব্য করলেন। শনিবার (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, প্রয়োজনে আমরা আবারও যুদ্ধ শুরু করতে পারি। আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী, বিশ্ব জুড়েই তা ছড়িয়ে রয়েছে, এবং আমরা বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহারের সক্ষমতা রাখি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত শেষ করার জন্য একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন যেখানে তেহরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে— এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
সম্মেলনে হেগসেথ চীনের সামরিক শক্তি নিয়েও মন্তব্য করেন। বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের দুই সপ্তাহ পর হেগসেথ এদিন বলেন, বেইজিংয়ের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে ‘যথাযথ উদ্বেগ’ রয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সম্মানজনক’ আঞ্চলিক ভারসাম্য চায়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় এমন একটি শক্তির ভারসাম্য যেখানে কোনো দেশ আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারে বা মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে না ফেলতে পারে।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন-এর এই সম্মেলনে অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেইজিং তার অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যাখ্যা দেয়ার তেমন প্রয়োজন মনে করছে না। তবে কেউ কেউ সতর্ক করে বলছেন, ইরান-সংক্রান্ত সংকট বা তাইওয়ান ইস্যুর মতো বড় নিরাপত্তা ইস্যু সামনে এলে চীন যদি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠায়, তাহলে কূটনৈতিকভাবে তারা চাপের মুখে পড়তে পারে।



