
উল্কাপাত

মোঃ জাহিদুল ইসলাম
উল্কাপাত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করে। উল্কা বৃষ্টি হল এক ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা যা রাতের আকাশে উল্কাপাতের একটি স্রোত হিসাবে দেখা যায়। এটি ঘটে যখন পৃথিবী কোনো ধূমকেতু বা গ্রহাণুর কক্ষপথের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে থাকে। এর ফলে ধ্বংসাবশেষ কণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে পরবর্তীতে যা আলোর ঝলকানির সৃষ্টি করে। এই ঝলকানিগুলোকেই উল্কা বৃষ্টি বলা হয়। উল্কা বৃষ্টি রাতের আকাশকে আলোকিত করে একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় উল্কাগুলো উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি তৈরি করে। এটি দেখতে তারার মতো মনে হয়। কিছু উল্কা বিভিন্ন রঙে আলোকিত হয়ে সম্পূর্ণ দৃশ্যটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পরিষ্কার আকাশে যে কেউ এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। তবে বিশেষ করে শহর থেকে দূরে যেখানে আকাশের অন্ধকার বেশি থাকে সেখানে দৃশ্যটির সৌন্দর্য আরো অনেক বেশি মনে হয়। উল্কা বৃষ্টি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে থাকে। সুতরাং আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখলে এই দৃশ্য দেখা সহজ হয়। উল্কা বৃষ্টি কনাগুলো সমান্তরালভাবে পতিত হয়। তাদের পতন হয় একটি বিন্দুকে কেন্দ্র করে। পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হবে যেন উল্কাগুলো একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে ছড়িয়ে চারিদিকে সমান্তরালভাবে পরছে। অর্থাৎ অনেকটা শেকলের মতো আর উল্কাগুলোর গতিবেগ প্রায় একই থাকে। এদের সবাই একই গতি,ত্বরণ নিয়ে পৃথিবীতে পড়তে থাকে। উল্কা এবং নক্ষত্র দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। উল্কা হল মহাকাশের ছোট ছোট পাথর বা পাথরের টুকরা যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর বাতাসের সাথে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে এবং আলোর ঝলকানি তৈরি করে। এই মহাজাগতিক দৃশ্যটিকে অনেকে “তারা খসে পড়া” বা “উল্কাপাত” বলে থাকে। অপরদিকে নক্ষত্র হল বিশাল আকারের জ্বলন্ত গ্যাসীয় গোলক। নক্ষত্র নিজের আলোয় আলোকিত হয়। এই নক্ষত্র মহাকাশে অনেক দূরে অবস্থিত। নক্ষত্রগুলো আকারে অনেক বড় এবং এদের নিজস্ব আলো ও তাপ রয়েছে। উল্কাপাত একটি ক্ষণস্থায়ী ঘটনা যা কিছুক্ষণের জন্য দেখা যায়। অপরদিকে নক্ষত্রগুলো যুগ যুগ ধরে জ্বলতে থাকে। উল্কাপিণ্ড আকারে সাধারণত ছোট আকৃতি হয়ে থাকে। এই উল্কাপিণ্ড গ্রহাণুর চেয়েও ছোট। এদের আকার সাধারণত কয়েক মাইক্রোমিটার থেকে ১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু নক্ষত্রগুলি আকারে বিশাল আকৃতির হয়ে থাকে। যেমন – সূর্য একটি বিশাল নক্ষত্র। সূর্য পৃথিবীর চেয়ে অনেক গুণ বড়। উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে যেখানে নক্ষত্রগুলো মহাকাশে অনেক দূরে অবস্থিত। উল্কাপিণ্ড পাথরের টুকরা, বরফ বা ধাতুর হতে পারে। অন্যদিকে নক্ষত্রগুলি মূলত হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের তৈরি। উল্কাপাত একটি ক্ষণস্থায়ী ঘটনা। এই ঘটনা মূলত কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য দেখা যায়। কিন্তু নক্ষত্রগুলি যুগ যুগ ধরে আলো দেয়। উল্কাপাত রাতের আকাশকে আলোকিত করে একটি চমৎকার দৃশ্য তৈরি করে। সুন্দর এই প্রাকৃতিক দৃশ্য অনেকের কাছেই আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত । বিশেষ করে উল্কা বৃষ্টির সময় যখন অনেক উল্কা একসাথে দেখা যায় তখন দৃশ্যটি আরও আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য হয়ে ওঠে। উল্কা বৃষ্টি মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু, যেমন ধূমকেতু এবং গ্রহাণু সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে। এদের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি বিশ্লেষণ করে সৌরজগতের গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়। অপরদিকে ক্ষতির দিকগুলির মধ্যে উল্কাপাত বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় আলো ও শব্দ তৈরি করে যা বিরক্তির কারণ হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে, বড় উল্কা পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে যা ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।



