
কাশ্মীরে তুষার বিহীন শীত, পর্যটন ব্যবসায় মন্দা
ভরা শীতেও এবার ভারতীয় কাশ্মীর অংশে তুষারের দেখা নেই। অথচ পর্যটন নির্ভর কাশ্মীরের তুষার-শুভ্র সৌন্দর্যই সবচেয়ে বেশি পর্যটক টানে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাওয়া কাশ্মীর অন্যদিকে পর্যটনখাতে শঙ্কা জাগানো পরিস্থিতি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভূ-স্বর্গ হিসেবে পরিচিত কাশ্মীরের হালচাল।
প্রতিবেদনের শুরুতে কাশ্মীর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে স্থানীয় এক হোটেল মালিকের অভিজ্ঞতা দিয়ে। ভারত-শাসিত কাশ্মীরের গুলমার্গ শহরে ১৭ বছর ধরে একটি হোটেল পরিচালনা করছেন মঞ্জুর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তুষারপাত ছাড়াই শীতকাল দেখছি। এখন পাহাড়গুলো তুষারে শুভ্র হয়ে থাকার কথা। অথচ পাহাড়গুলো ধুসর ও বিবর্ণ হয়ে আছে।’
৫০ বছর বয়সী এ ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘পর্যটকেরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। হোটেলের অনেক কক্ষ এখন খালি পড়ে আছে।’
প্রতিবছর শীতকালে হাজার হাজার পর্যটক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাশ্মীরে যান শুধু তুষারপাত দেখার জন্য। অনেকে তুষারের ওপর স্কি করতে পছন্দ করেন। কিন্তু এ বছর তুষারপাত না থাকায় পর্যটনশিল্প ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, গত জানুয়ারিতে প্রায় ১ লাখ পর্যটক এসেছিলেন কাশ্মীরে। এ বছর সংখ্যাটি অর্ধেকেরও নিচে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরে তুষারহীনতা এ অঞ্চলের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। কারণ কাশ্মীরে জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ আসে এর পর্যটন খাত থেকে। এ ছাড়া কৃষিকাজ ও পানি সরবরাহের ওপরেও প্রভাব ফেলবে। কারণ তুষারপাতের স্বল্পতার কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতেও টান পড়বে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। শীত ও গ্রীষ্ম উভয় সময়েই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, গত ডিসেম্বরে এ অঞ্চলে ৭৯ শতাংশ বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং জানুয়ারিতে ১০০ ভাগ ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শীত মৌসুমে হাজার হাজার স্কিয়ারের পদচারণায় মুখরিত থাকে কাশ্মীরের গুলমার্গ শহর। এ শহরটির সাড়ে ৮ হাজার ফুট উচ্চতার ঢাল সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তুষারে ঢাকা থাকে। কিন্তু গুলমার্গে এ বছর তুষারপাত নেই। হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন স্কিয়াররা।
৬৫ বছর বয়সী স্কি প্রশিক্ষক ইশফাক আহমেদ মালিক বলেন, ‘জানুয়ারিতে এমন দৃশ্যের কথা ভাবাই যায় না। আমি আমার জীবদ্দশাতে তুষারহীন গুলমার্গ দেখিনি। এটি নজিরবিহীন।’



