বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের আদেশ সোমবার

রূপসী বাংলা ডেস্ক:কুমিল্লায় হত্যা-নাশকতা ও নড়াইলের মানহানির মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদনের ওপর  শুনানি হয়েছে। ২৮ মে, সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

২৭ মে, রবিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত সোমবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করে।

আদালত তার আদেশে বলে, ‘অর্ডার ফর টুমরো।’

নড়াইলে মানহানির মামলার শুনানিতে আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘জামিনযোগ্য অপরাধে আসামি আবেদন না করলেও আদালত স্বতপ্রণোদিত হয়ে জামিন দিতে পারেন। ঢাকা ল’ রিপোর্ট (ডিএলআর) ৬৮ অনুযায়ী জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন পাওয়া আসামির অধিকার। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া জামিন চেয়েছেন, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দেননি, মামলার নথিগুলো রেখে দিয়েছেন; যা ক্ষমতার অপব্যবহার।’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এই মামলা সংক্রান্ত পূর্বের আদেশগুলো আদালতে দাখিল করা উচিত ছিল। সেগুলো দেওয়া হয়নি।’

কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় (নাশকতার) জামিন চেয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতে বলেন, ‘সরকারি কোনো গাড়ি বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫(৩) ধারায় মামলা করা হয়। কিন্তু এই মামলার বিষয়টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়নি। এ মামলার মূল বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলা।

এ মামলার অন্যান্য আসামিরা জামিন রয়েছেন। এ সমস্ত বিবেচনায় খালেদা জিয়ার জামিন হতে হতে পারে। ফৌজদারি কার্যাবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রেও মহিলা, বয়স্ক, অসুস্থ এবং শিশু বিবেচনায় জামিন দেওয়া যাবে, যে ক্ষেত্রে এই আইনে খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।’

গত ২০ মে কুমিল্লা ও নড়াইলের তিন মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়া।

গত ১৬ মে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখে আপিল বিভাগ। তবে তার কারামুক্তির জন্য আরও ছয়টি মামলায় জামিন নিতে হবে। পাশাপাশি চারটি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহারের প্রয়োজন রয়েছে। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকার পৃথক আদালতে দুটি মানহানির মামলায় জামিনের আবেদন করেন। চারটি মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন জানান।

আদালত শুধু নাইকো মামলায় হাজিরা পরোয়ানা প্রত্যাহার করেছে। বাকি আবেদনগুলোর বিষয়ে পরে আদেশ দেওয়া হবে উল্লেখ করে দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালে ২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ফলে সাতজন যাত্রীর মৃত্যু এবং আরও ২৫ থেকে ২৬ জন গুরুতর আহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়। এ মামলার অভিযোগপত্রে খালেদা জিয়ার নাম আসে।

একই বছরের ২৫ জানুয়ারি নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায়ও খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

বিচার চলাকালে এ দুটি মামলায় গত ২৩ এপ্রিল জামিন চেয়ে আবেদন জানালে ৭ জুন দিন ধার্য করা হয়। এ তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন জানালে আদালত তা-ও খারিজ করে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইলে মানহানির মামলা করে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে রায়হান ফারুকি ইমাম। মামলাটি নড়াইলের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে বিচারাধীন। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে তার আইনজীবীরা আবেদন করেন।

আদালতে বিলম্বে শুনানির দিন ধার্য থাকায় তিনটি মামলায় জামিন আবেদন দায়েরের জন্য রবিবার সকালে হাইকোর্টে অনুমতি চান খালেদার আইনজীবীরা। অনুমতি পেয়ে জামিনের আবেদন দাখিল করেন তারা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension