
ট্রাম্পের নজরে মাস্ক ও জোহরান: নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি কতটা বাস্তব?

শাহ্ জে. চৌধুরী
আগামী নির্বাচনের প্রচারে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে আবারও বিতর্কিত অবস্থান নিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও নিউইয়র্কের রাজনীতিক জোহরান মামদানি—যারা উভয়েই জন্মসূত্রে আমেরিকান নন—তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য তিনি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে চান।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং অভিবাসী সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কারা এই দুই আলোচিত ব্যক্তি?
৩৩ বছর বয়সী জোহরান মামদানি উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে নিউইয়র্কে চলে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষ অবলম্বন করে তিনি ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেছেন।
অন্যদিকে, ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০২ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি সমানভাবে জনপ্রিয় ও সমালোচিত।
কী অভিযোগ?
ট্রাম্পপন্থী আইনপ্রণেতারা অভিযোগ তুলেছেন, জোহরান মামদানি নাকি তার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ‘দেশদ্রোহী বা সন্ত্রাসবাদ সমর্থনমূলক’। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ইলন মাস্ককে নিয়েও ট্রাম্প সম্প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা তাকে তার দেশে ফেরত পাঠাব।” তবে সেটি কতটা রাজনৈতিক বাক্যবাণ, আর কতটা বাস্তব উদ্যোগ—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
আইনি দিক কী বলছে?
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ন্যাচারালাইজড নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, তিনি প্রতারণা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে তা অর্জন করেছেন। অথবা তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসবাদ বা শত্রু দেশের পক্ষে কাজ করেছেন।
কুইন্স কলেজের আইনজ্ঞ মাইকেল কেগান বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। এটি মূলত রাজনৈতিক শোরগোল সৃষ্টি করার কৌশল।”
রাজনীতি নাকি আইন?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যুকে আবারও সামনে এনে নিজের কট্টর সমর্থকদের উজ্জীবিত করতেই ট্রাম্প এমন ভাষা ব্যবহার করছেন। অভিবাসনবিরোধী মনোভাব দীর্ঘদিন ধরেই তার রাজনীতির একটি মূল অংশ।
তবে এ ধরনের মন্তব্যে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। নিউইয়র্কে বসবাসরত এক অভিবাসী বলেন, “এই ধরনের কথা শুনে মনে হয় যেন আমরা কখনোই নিরাপদ নই।”
উপসংহার
আইনি দিক দিয়ে দেখলে ট্রাম্পের এই হুমকি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি তাকে তার ভিত্তিমূল্যের মধ্যে শক্ত ভিত গড়তে সহায়তা করতে পারে। আর সে জন্যই হয়তো এই বিতর্কিত ইস্যু আবারও সামনে নিয়ে এসেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।



