
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ: মিডটাউনের প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউ ইয়র্ক সিটি | জুলাই ৩১, ২০২৫
নিউ ইয়র্ক সিটির মিডটাউনে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক গুলির ঘটনা, যেখানে চারজন নিহত হন—তাদের মধ্যে একজন ছিলেন এনওয়াইপিডি অফিসার দিদারুল ইসলাম—তা এখন শহরের মেয়র নির্বাচনকে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে। জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা মোকাবিলায় প্রার্থীদের পরিকল্পনা ও অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক।
গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি বহুতল ভবনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন সাধারণ মানুষ ও অফিসার ইসলাম নিহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে বন্দুকধারীও নিহত হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর শহরজুড়ে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনে এগিয়ে থাকা প্রার্থী অ্যাঞ্জেলা রোমেরো ঘটনাস্থলের কাছে এক প্রেস কনফারেন্সে বলেন:
“এই ট্র্যাজেডি আমাদের চোখ খুলে দেয়। জননিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতি করার সময় নয়—এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”
অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলম্যান জেরোম বেক বলেন:
“এটা শুধু পুলিশি ব্যর্থতা নয়—এটা গোটা সিস্টেমের ব্যর্থতা। মানসিক স্বাস্থ্য, আবাসন, কর্মসংস্থান—সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।”
জননিরাপত্তা হয়ে উঠছে মূল ইস্যু
এতদিন নির্বাচনী বিতর্কে আবাসন সমস্যা, শিক্ষা সংস্কার এবং ট্রান্সপোর্ট ইস্যুই ছিল মুখ্য। কিন্তু মিডটাউনের এই হত্যাকাণ্ড জনমতকে পরিবর্তন করেছে।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নগরনীতি বিভাগের অধ্যাপক লেনা হার্পার বলেন:
“অপরাধ আগে ছিল নীরব ইস্যু, এখন তা নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু। যিনি বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারবেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন।”
সম্প্রদায়ের শোক ও দাবি
বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে অফিসার দিদারুল ইসলামের মৃত্যু গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক প্রার্থনা সভায় শত শত মানুষ অংশ নেয়, উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধিরাও।
ইমাম কারিম উদ্দিন বলেন:
“এটা কেবল রাজনৈতিক ইস্যু নয়—মানবিক বিষয়। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর নিরাপত্তা চাই।”
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, উত্তাপ তত বাড়ছে
প্রাথমিক ভোটের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি, প্রার্থীরা জননিরাপত্তা, পুলিশ সংস্কার এবং সমাজের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে জনসভা ও আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
এই শোকের মুহূর্তে নিউ ইয়র্কবাসীর সামনে এক বড় প্রশ্ন—কে শহরকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ রাখতে পারবেন?



