নিউ ইয়র্কপ্রধান খবর

চিরবিদায় দিদারুল: প্রায় ৩০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা

শাহ্ জে. চৌধুরী

নিউ ইয়র্ক | জুলাই ৩১, ২০২৫

ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (NYPD) অফিসার দিদারুল ইসলাম–এর জানাজা। হৃদয়বিদারক এই বিদায়ে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ অংশ নেন—যা সাম্প্রতিক সময়ে নিউ ইয়র্কে কোনো মুসলিম আমেরিকানের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মানজনক বিদায় অনুষ্ঠান।

ম্যানহাটনে শহীদ
৩৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলাম গত সোমবার ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউতে এক বন্দুকধারীর হামলায় প্রাণ হারান। তিনি সেদিন দায়িত্বে না থাকলেও, কর্তব্যবোধ থেকে এগিয়ে যান হামলাকারীকে থামাতে। সাহসিকতার এই দৃশ্য তাঁকে পরিণত করেছে শহরের একজন ‘সত্যিকারের বীর’-এ।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা
• জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে, পার্কচেস্টার জামে মসজিদে।
• সকাল ৯টা থেকেই মসজিদ সাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল দিদারুল ইসলামকে শেষবারের মতো দেখার জন্য।
• আনুমানিক ৩০,০০০ মানুষের ঢল নামে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন শতাধিক NYPD কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধি।
• NYPD’র হোনার গার্ড (Honor Guard) মরদেহ মসজিদে নিয়ে আসে এবং ‘Final Call’ ও ‘Salute’ জানিয়ে বিদায় দেয়।
• মসজিদ চত্বর এবং আশপাশের এলাকা হয়ে ওঠে নীরব, শ্রদ্ধায় নত, গর্বিত একটি বর্ণাঢ্য বিদায়ের সাক্ষী।

বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
জানাজায় অংশ নেন—
• নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস
• নিউ ইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হোচুল
• NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ, যিনি অফিসার দিদারুল ইসলামকে মরণোত্তর “Detective First Grade” পদে উন্নীত ঘোষণা করেন
• বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধি, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্টসহ নিউ ইয়র্ক সিটির শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা
• বাংলাদেশি কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও নতুন প্রজন্মের শত শত সদস্য

কমিশনার টিশ বলেন—
“তিনি শুধু নিউ ইয়র্কের জন্য নয়, আমাদের সকলের প্রিয় মূল্যবোধ—সাহস, দায়িত্ববোধ এবং নিঃস্বার্থ সেবার জন্য জীবন দিয়েছেন।”

পরিবার ও কমিউনিটির সহানুভূতি
• দিদারুল ইসলাম রেখে গেছেন তাঁর গর্ভবতী স্ত্রী, দুই শিশু সন্তান এবং বৃদ্ধ পিতা।
• পুত্রের মৃত্যুসংবাদে তাঁর পিতা স্ট্রোক করেন এবং স্ত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
• তাঁর পরিবারের জন্য চালু হওয়া GoFundMe তহবিলে ইতোমধ্যে $২৫০,০০০ ডলারের বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়েছে।
• সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ঢল—একজন পুলিশ সদস্যের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের জন্য।

শেষ বিদায়
• জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় নিউজার্সির টোটোওয়া ইসলামিক কবরস্থানে।
• সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ইসলামি বিধি মেনে তাঁকে দাফন করা হয়।
• NYPD আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ডিউটির সমাপ্তি ঘোষণা করে:
“End of Watch: Officer Didarul Islam”

উপসংহার
দিদারুল ইসলাম ছিলেন না শুধুই একজন পুলিশ অফিসার—তিনি ছিলেন বিশ্বাস, মানবতা এবং কর্তব্যপরায়ণতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাহসিকতা কোনো জাতীয়তা বা পদের সীমারেখায় আবদ্ধ নয়।
নিউ ইয়র্কবাসী তাঁকে মনে রাখবে একজন “True American Hero”, এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একজন গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে।

ছবি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension