
বাজেট, সংস্কার ও জনগণের প্রশ্ন: এই পরিবর্তন কার জন্য?
বাংলাদেশে নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষিত হয়েছে। সরকার বলছে, এটি একটি “সংস্কারমূলক বাজেট”, যেখানে রাজস্ব আহরণ, ব্যয় কাঠামো ও অর্থনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা রয়েছে।
কিন্তু একটি সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার প্রশ্ন—এই সংস্কারের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা?
❝ পরিবর্তন যদি হয় শুধু উপরমাঠে, ভোগান্তি যদি বাড়ে নিচের মানুষের, তাহলে এই সংস্কার আসলে কাদের জন্য? ❞
গরীববান্ধব বাজেট না উচ্চবিত্ত-সহায়ক কাঠামো?
প্রত্যেক বছর বাজেট ঘোষণার পর এক শ্রেণির মানুষ সুবিধা পায়—সাধারণত তা হয় বৃহৎ করপোরেট গোষ্ঠী, ব্যবসায়িক এলিট বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিবর্গ।
অন্যদিকে:
• কৃষিপণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ে, কিন্তু কৃষকের প্রণোদনা কম থাকে।
• শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ে না সেই অনুপাতে, যেভাবে মূল্যস্ফীতি বা জনসংখ্যা বাড়ছে।
• নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর ভ্যাট-কর বৃদ্ধি, অথচ বিলাসবহুল পণ্যে ছাড়—এটাই কি গরীববান্ধব?
রাজনৈতিক চেহারার পুনরাবৃত্তি
বর্তমান রাজনীতি যেন এক মুখোশধারী চক্রের পুনরাবৃত্তি।
পার্টি বদলায়, রং বদলায়, কিন্তু লক্ষ্য বদলায় না—ক্ষমতা ও সম্পদের কেন্দ্রায়ন।
এখানেই গণতন্ত্রের প্রশ্ন ওঠে—এই বাজেট জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, না কি কিছু সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর?
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও আমাদের প্রতিফলন
বিশ্বের বহু তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই আজ এই একই প্রবণতা—
গরীব স্থবির, ধনী আরও গতিশীল।
বাংলাদেশও কি ধীরে ধীরে এই অসাম্যের চক্রে বাঁধা পড়ছে?
বিশ্বব্যাপী বৈষম্য বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো দেখাচ্ছে, করোনা-পরবর্তী সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, আমাদের বাজেটও কি সেই একই বৈষম্যকে সুরক্ষা দিচ্ছে না?
উপসংহার: প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে
সরকার, বিরোধী দল কিংবা সুশীল সমাজ—কেউ যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেয়, তাহলে জনগণের হাতেই প্রশ্ন তোলার দায়িত্ব বর্তায়। এ দেশ শুধু এক শ্রেণির নয়—সব শ্রেণির, সব মানুষের।
তাদের জন্য একটি সুষ্ঠু, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বাজেট চাই—শুধু সংখ্যা নয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি-সম্বলিত বাজেট।
শাহ্ জে. চৌধুরী: লেখক ও পর্যবেক্ষক।



