যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের একটিতে হামলা বা হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি যুদ্ধে জড়াবে।

কিন্তু ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প নিজেই একের পর এক দেশকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, এমনকি কয়েকটি দেশে হামলাও চালিয়েছেন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি দেশকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে হয় হামলার হুমকি দিয়েছেন, নয়তো হামলা চালিয়েছেন। অর্থাৎ, বিশ্বের প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে প্রায় ১টি দেশ ট্রাম্পের সামরিক হুমকি বা হামলার তালিকায় পড়েছে।

সাম্প্রতি তিনি ওমানকে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলার হুমকি দেন।

হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ওমান যদি অন্যদের মতো আচরণ না করে, তাহলে আমরা তাদের ধ্বংস করে দিতে বাধ্য হব।’ তার এই মন্তব্যটি তিনি খুব স্বাভাবিকভাবে, প্রায় হঠাৎ করেই বলে ফেলেন বলে মনে হয়েছে, যা তার আগের অনেক বক্তব্যের মতোই বিতর্ক তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই দফা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে অন্তত ১৫টি দেশকে হয় হামলার হুমকি দিয়েছেন, নয়তো হামলার সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন, অথবা সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সব ঘটনাই তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৬ মাসে ঘটেছে।

তবে কিছু দেশ প্রথম ও দ্বিতীয়, উভয় মেয়াদেই তার হুমকি বা সামরিক পদক্ষেপের তালিকায় ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশে সামরিক অভিযান ও হামলার হুমকি এবং কিছু ক্ষেত্রে হামলাও করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বছরে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সাতটি দেশে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। এ ছাড়া আরো কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে হুমকি বা সম্ভাব্য হামলার কথা বলা হয়েছে, যেমন কানাডা, মেক্সিকো, কিউবা, পানামা, কলম্বিয়া, ডেনমার্কের অধীন গ্রিনল্যান্ড এবং ওমান।

এ ছাড়া কিছু মাদকবাহী নৌকার বিরুদ্ধে ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এই অভিযান সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন বলছে, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান চলছে, কারণ এসব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহে জড়িত। এর ফলে চলমান অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নীতি অনেক সময় অপ্রত্যাশিত ও চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে দেখা হয়, যাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করা যায়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই ধরনের হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলছে।

যেসব দেশকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার হুমকি দিয়েছেন বা হামলা চালিয়েছেন, সেসব দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ ভাগের ১ ভাগ মানুষ বসবাস করে। অর্থাৎ, বিশ্বের প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে ১ জন এমন দেশে বাস করেন, যাদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কোনো না কোনো সময় সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন বা হামলা চালিয়েছেন। প্রতিবেদনের মতে, এসব দেশের মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই অন্তত পাঁচটি দেশকে হামলার হুমকি দিয়েছেন বা সামরিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মোট দেশের সংখ্যা ২০টিরও কম। অর্থাৎ, এই অঞ্চলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প কোনো না কোনো সময় সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন বা অভিযান চালিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বের চারটি মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা। এ ছাড়া তিনি ইউরোপের দেশ ডেনমার্ককেও পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন। যদিও বিষয়টি ছিল উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ডকে নিয়ে, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছার কথা তিনি প্রকাশ করেছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব ১৫টি দেশকে হামলার হুমকি দিয়েছেন বা সামরিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছেন, তাদের মধ্যে পাঁচটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার সম্ভাব্য এলাকা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। এই পাঁচটি হলো কানাডা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা (বিশেষ করে পানামা খাল) এবং ভেনিজুয়েলা। প্রতিবেদনটির মতে, এসব মন্তব্য ও প্রস্তাব ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে আরো আগ্রাসী ও সম্প্রসারণবাদী হিসেবে তুলে ধরেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension