
মাইকেল ট্যালির স্কুলবাসে আবাস
পেশায় গ্রাফিক ডিজাইনার মাইকেল ট্যালি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস শহরের এই বাসিন্দা তার গ্রাফিক ডিজাইনের জ্ঞান আর স্থাপত্যের ধারণার মিশেল ঘটিয়ে অভিনব এক বাড়ি তৈরি করে ফেললেন। আর এ জন্য তার খরচ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। একটি পুরোনো স্কুলবাস কিনে তার খোলনলচে পাল্টে চমৎকার অন্দরসজ্জা করে নিলেন ট্যালি।
আসলে বাড়ি ভাড়া দিতে দিতে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন এই ব্যক্তি। একপর্যায়ে ঠিক করলেন, এমন কিছু করবেন যাতে করে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ১ হাজার ২০০ ডলার আর দিতে না হয়। তিনি আসলে এর একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাচ্ছিলেন। তার হাতে অর্থকড়িও খুব বেশি ছিল না। এ অবস্থায় তার মনে হলো নতুন কিছু করতে হবে। সুযোগ মিলে গেল কিছুদিনের মধ্যেই। অনলাইনে তিনি দেখলেন বেশ কয়েকটি পুরোনো স্কুলবাস নিলামে তোলা হচ্ছে। ব্যাস, ২ হাজার ২০০ ডলারে কিনে নিলেন সেখান থেকে একটি বাস। এরপর ভেতরের সিটগুলো ফেলে দিয়ে সেখানে শোয়ার ঘর, স্নানঘর, রান্নাঘর তৈরি করলেন। আর এ জন্য তাকে প্রচুর পরিকল্পনা করতে হয়েছে। জুরাসিক পার্কের মতো নানা ধরনের চলচ্চিত্র দেখে নকশা দাঁড় করাতে হয়েছে। ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে বারবার সেই নকশার পরিবর্তনও করতে হয়েছে।
এসব কাজে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেছেন ট্যালির এক বন্ধু। তিনি নিজের খামারে বাসটি রাখার জায়গা করে দিয়েছেন ট্যালির জন্য। যাতে করে সেখানে তিনি সময় নিয়ে বাসটিকে নতুন রূপ দিতে সক্ষম হন।
যাই হোক, যতটা সহজ ভেবেছিলেন, কাজটি কিন্তু ততটা সহজে হয়নি। এ জন্য ট্যালিকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বাসের ছাদ উঁচু করা, দেয়ালে ক্যাবিনেট তৈরি, ভেতরের পরিসরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেবিল, সোফা তৈরি করা, বিদ্যুতের জন্য বাসের ওপর সৌর প্যানেল স্থাপন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা- একটার পর একটা কাজ।
তবে কাজ শেষে সাধুবাদ পেয়েছেন অনেকের কাছ থেকেই। কেননা, এতে যে শুধু তার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে, তা নয়। বরং পুনর্ব্যবহারের যুগে এভাবে পরিত্যক্ত একটা বাহনকে নতুন করে ব্যবহারের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি, তা অনেককেই নতুন কিছু ভাবতে এবং করতে উৎসাহিত করেছে।



