
‘মাদুরো নেতৃত্বাধীন কার্টেলকে’ সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার কার্টেল দে লোস সোলেসকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই কার্টেল বা চক্রটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নেতৃত্বে চলে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
রোববার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওই চক্রটিকে আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে বিবেচনা করার পরিকল্পনা করছে।
এর অর্থ, সেদিন থেকে মাদুরোও কার্যত সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচিত হবেন। যুক্তরাষ্ট্র তাকে এই কার্টেলের প্রধান হিসেবে দেখলেও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এর আগে এই ‘কথিত চক্রটির’ বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, কিন্তু এফটিও তালিকাভুক্ত হলে ওয়াশিংটন আরও ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে।
এই কার্টেলটি মাদক পাচার ও অবৈধ খননের মতো কার্যক্রমে জড়িত অপরাধীদের সংগঠন বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে। মাদুরো এবং সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত তার ঘনিষ্ঠরাই চক্রটি চালান বলে ভাষ্য ওয়াশিংটনের।
যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত মাদক পাচারে মাদুরোর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ দেয়নি। কিন্তু এভাবে চিত্রিত করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে হামলা বা সামরিক অভিযান শুরুর অজুহাত তৈরি করছে বলেই মনে হচ্ছে।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছে। দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং এর তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ পেতে তাদের আকাঙ্ক্ষা গোপনও নয়।
ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে ‘মাদক চোরাকারবারিদের’ থামানোর কথার আড়ালে মাদুরোর পতনই যে তাদের মূল লক্ষ্য, তা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় দেশটির অভ্যন্তরে মার্কিন হামলা কবে হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও শুরু হয়ে গেছে।
ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহিনী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েনে আদেশ দেওয়ার পর অক্টোবরে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘নতুন যুদ্ধের অজুহাত সাজানোর’ অভিযোগ আনেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় কী করা হবে, সে বিষয়ে অনেকটাই ‘মনস্থির করে ফেলেছেন’ তিনি।
রোববার রাতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করতে রুবিওকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
“আমরা হয়তো মাদুরোর সঙ্গে কিছু আলাপ করতে পারি, ভেনেজুয়েলাও কথা বলতে চায়,” বলেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ আদৌ হবে কিনা, হলেও কবে মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট তাও খোলাসা করেননি।
জানুয়ারিতে মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর পর ওয়াশিংটন তাকে সরাতে আগের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকায় নেমেছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার শেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘ভোট জালিয়াতির’ অভিযোগ করে আসছে পশ্চিমারা।
“না মাদুরো, না তার ঘনিষ্ঠরা ভেনেজুয়েলার বৈধ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে,” বিবৃতিতে বলেছেন রুবিও।
মাদুরোকে শীর্ষ ‘মাদক-পাচারকারী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে তথ্যের জন্য অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার করেছিল।
ভেনেজুয়েলা মাদকচক্র নির্মূলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও ওয়াশিংটনের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল মাদক ঢোকে তার জন্য কারাকাসের দায় আছে বলেও মত ট্রাম্পের।
বিবিসি লিখেছে, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল যাওয়ার কোনো প্রমাণই নেই। ফেন্টানিল মূলত তৈরি হয় মেক্সিকোতে, উপকরণের সিংহভাগ যোগাড় হয় এশিয়া থেকে।
ভেনেজুয়েলার সরকার তাদের দেশ থেকে কিছু পরিমাণ কোকেন পাচার হয় বলে স্বীকার করে নিলেও পুরো অঞ্চলে আরও অনেক বড় বড় পাচার হাব রয়েছে। কোকেনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়ায়।
‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ নামে সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়া উপকূলের কাছে একের পর এক নৌযানে বিমান হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এমন অন্তত ২১টি হামলায় ৮৩ জনের প্রাণও গেছে। ওয়াশিংটন এদেরকে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী বললেও এখন পর্যন্ত তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
তার মধ্যেই তারা ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ সৈন্য, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজসহ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে সমরশক্তি বাড়িয়েই চলছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বিভিন্ন দেশের অনেক কার্টেলকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।



