
হরমুজ পুরোপুরি অবরুদ্ধ, ইরানের পুরো নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে: ট্রাম্প
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পুরো নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে চলে গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিও পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও বাস্তবে সংঘাত ও উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের সমালোচনা করেছেন। ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছিল যে ইরানের নেতৃত্ব ট্রাম্পকে ‘সহজে বোকা বানানো যায়’ বলে মনে করে।
ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তেহরান প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ব্যবহার’ করেছে, তবে এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আর আমি তাদের কী দিয়েছি? একেবারে ভেঙে পড়া একটি দেশ!’
এরপর তিনি একাধিক দাবি তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘পুরো নৌবাহিনী সাগরের তলদেশে, তাদের বিমান বাহিনী নেই বললেই চলে, আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে’ এবং ‘তাদের পারমাণবিক গবেষণাগার ও সংরক্ষণাগার সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে’।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটি প্রতিদিন ‘৫০০ মিলিয়ন ডলার’ হারাচ্ছে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করে, সেই সংঘাত চলাকালীন ট্রাম্প বারবার ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হওয়ার দাবি করলেও, ইরানি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিও কার্যত বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরান আসলে এটি খোলা রাখতে চায়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চায় না, তারা এটি খোলা রাখতে চায় যাতে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে, যা বন্ধ থাকলে তারা হারাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা শুধু বলছে প্রণালি বন্ধ রাখতে চায়, কারণ আমি এটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ (বন্ধ) করে রেখেছি। তাই তারা আসলে ‘সম্মান রক্ষা’ করতে চাইছে’। ট্রাম্প দাবি করেন, ‘চার দিন আগে কিছু লোক আমার কাছে এসে বলেছে— স্যার, ইরান চায় হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেয়া হোক।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমরা এটি খুলে দিই, তাহলে ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিই সম্ভব হবে না যদি না আমরা তাদের দেশের বাকি অংশ, এমনকি তাদের নেতৃত্বকেও ধ্বংস করি।’



